সৌদি ফ্লাইট আপডেট

কোন ফ্লাইট বন্ধ, কোন তারিখ পর্যন্ত স্থগিত, যাত্রীরা কী করবেন

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী ও সৌদি আরব হয়ে অন্য দেশে যাওয়ার একাধিক ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। এতে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত ৬১টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইটের চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। ভ্রমণ করতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ৯ হাজার ২৬৯ জন যাত্রী।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্যের বরাতে এ খবর জানানো হয়েছে। ১০ অক্টোবর রাত থেকে ১৩ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত এসব ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটে। এর মধ্যে ২২টি সরাসরি ফ্লাইট এবং ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট। 

রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এই বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। তবে সব সৌদিগামী ফ্লাইট একই সময় পর্যন্ত বন্ধ নয়; বিভিন্ন এয়ারলাইনস ও রুটের ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আলাদা।

কোন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বন্ধ, কত দিন পর্যন্ত?

মঙ্গলবার পর্যন্ত পাওয়া প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আপডেটগুলো হলো—

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস স্থগিত
ঢাকা–রিয়াদ–ঢাকা রুটের ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে বিমান। পাশাপাশি ১৩ অক্টোবরের ঢাকা–দাম্মাম ফ্লাইট BG349 নিরাপত্তাজনিত কারণে বাতিল করা হয়েছে। দাম্মাম ফ্লাইটের সংশোধিত সময়সূচি বুধবার দুপুরের মধ্যে জানানোর কথা ছিল। 

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস: ২১ অক্টোবর পর্যন্ত

ঢাকা–রিয়াদ–ঢাকা রুটের ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে এয়ারলাইনসটি। 

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৩ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত সৌদিয়ার চারটি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি সরাসরি ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটেছে। এগুলো সব ফ্লাইটের জন্য একই মেয়াদের স্থগিতাদেশ বোঝায় না; যাত্রীদের নির্দিষ্ট ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করতে হবে। 

ট্রানজিট ফ্লাইট
ইন্ডিগো, সালামএয়ার, ইজিপ্টএয়ার, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ ও ফ্লাইদুবাইয়ের বিভিন্ন ট্রানজিট ফ্লাইটেও বিঘ্ন ঘটেছে। যাঁদের গন্তব্য সৌদি আরব নয়, কিন্তু সৌদি আরবের বিমানবন্দর বা সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক রুট হয়ে যাওয়ার কথা, তাঁদেরও এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। 

রিয়াদ বিমানবন্দরের পরিস্থিতি: ১২ অক্টোবর রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানবন্দরটি ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়েছিল। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে সময়সীমা পরিবর্তিত হতে পারে। 

যাত্রীরা এখন কী করবেন?
১. বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ফ্লাইট নিশ্চিত করুন। টিকিটে উল্লেখিত সময় দেখে সরাসরি বিমানবন্দরে চলে যাবেন না। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের ওয়েবসাইট, ফ্লাইট স্ট্যাটাস বা কল সেন্টার থেকে ফ্লাইটটি চালু আছে কি না নিশ্চিত হন।
২. টিকিট ও বুকিংয়ের তথ্য সংরক্ষণ করুন। টিকিট নম্বর, বুকিং রেফারেন্স (PNR), পাসপোর্ট এবং এয়ারলাইনসের পাঠানো বার্তা কাছে রাখুন। ফ্লাইট বাতিল হলে নতুন সময়সূচি, বিকল্প ফ্লাইট অথবা রিফান্ডের নিয়ম জেনে নিন।
৩. ট্রানজিট যাত্রীরা পুরো যাত্রাপথ যাচাই করুন। একটি ফ্লাইট চালু থাকলেও পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইট বাতিল হতে পারে। তাই শুধু প্রথম ফ্লাইট নয়, পুরো রুটের অবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. প্রবাসী কর্মীরা নিয়োগকর্তা ও রিক্রুটিং এজেন্সিকে জানান। ফ্লাইট স্থগিত হলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা, জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সিকে দ্রুত জানিয়ে নতুন যাত্রার তারিখ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়ে সমন্বয় করুন।
৫. গুজব এড়িয়ে চলুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো নির্দিষ্ট তারিখকে বিমানবন্দর বা এয়ারলাইনসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া চূড়ান্ত ধরে নেবেন না।
বিমানের সর্বশেষ ঘোষণার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ট্রাভেল আপডেট এবং ফ্লাইট স্ট্যাটাস দেখুন। যোগাযোগের জন্য বিমানের প্রকাশিত হটলাইন ১৩৬৩৬ ব্যবহার করা যেতে পারে। 

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কবে?
রিয়াদ ও অন্যান্য সৌদি বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার নির্দিষ্ট সময় এবং সব রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালুর চূড়ান্ত সময়সূচি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোনো ফ্লাইটের স্থগিতাদেশ শেষ হওয়ার তারিখ থাকলেও সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফ্লাইট চালু হওয়ার নিশ্চয়তা নয়।

প্রতিবেদনের তথ্য-সীমা: এই প্রতিবেদন ১৩ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। বিশেষ করে ১৭ ও ২১ অক্টোবরের তারিখগুলো সংশ্লিষ্ট রুটের ঘোষিত স্থগিতাদেশের মেয়াদ; পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত হলে এয়ারলাইনসের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিই অনুসরণ করতে হবে।