মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বাড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ

দেশে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাণীর রোগ প্রতিরোধে টিকা ও ওষুধের সরবরাহ বাড়ানো এবং ইলিশ আহরণ বন্ধের সময়ে প্রান্তিক জেলেদের জীবনমান সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সাথে দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ, সামুদ্রিক মাছ উৎপাদন ও আহরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রাণিজ খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে মৎস্য অধিদফতর ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর পরিদর্শনকালে এসব নির্দেশনা ও সুপারিশ করা হয়। এ সময় কমিটির সদস্য আলী আজম মো: আবু বকর উপস্থিত ছিলেন।

 

পরিদর্শনকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সার্বিক কার্যক্রম, উৎপাদন পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে অধিদপ্তর দুটির মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। দেশের মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এসব পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন কমিটির সদস্যরা।

 

সভাপতি খায়রুল কবির খোকন দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছ উৎপাদন এবং আহরণের ক্ষেত্রে আরো স্বচ্ছতা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। মাছের উৎপাদন বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম জোরদার করারও তাগিদ দেয়া হয়।

 

প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে গবাদিপশু ও অন্যান্য প্রাণীর উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ে প্রয়োজনীয় টিকা এবং ওষুধের সরবরাহ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়।

 

কমিটির পক্ষ থেকে হাঁস-মুরগি পালন, গর্ভবতী ও দুগ্ধবতী গাভীর পরিচর্যা, সুষম পুষ্টিগুণসম্পন্ন দুধ উৎপাদন এবং দেশীয় গরুর জাত সংরক্ষণে চলমান কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি প্রাণিজ খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

দেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখার কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রান্তিক জেলেদের জীবনমান সুরক্ষায় বিশেষ নজর দেয়ার সুপারিশ করে কমিটি। এ সময়ে জেলেরা যাতে জীবিকা নির্বাহে সঙ্কটে না পড়েন, সে জন্য তাদের যথাযথ প্রণোদনা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়।

 

এ ছাড়া প্রাণীর পুষ্টি উন্নয়নে উন্নত জাতের ঘাস চাষ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং পথকুকুরের মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগের বিস্তার রোধে নেয়া প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুততর করার পরামর্শ দেয়া হয়। এসব কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অগ্রগতি অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন কমিটির সদস্যরা।