সেই রাজস্ব কর্মকর্তারই ছেলে ইফাত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঈদে ১৫ লাখ টাকার ছাগল দিয়ে কোরবানি করছেন ইফাত, এমন পোস্টের পর দেশজুড়ে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি এখন আলোচনার তুঙ্গে। বলা হচ্ছে, তার বাবার নাম রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমান। যদিও ইফাতের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্কই নেই বলে জানিয়েছেন ওই ব্যক্তি।

তবে বৃহস্পতিবার (২০ জুন) এক জনপ্রতিনিধিসহ কর্মকর্তার একাধিক নিকটাত্মীয় নিশ্চিত করেছেন যে ইফাত মতিউর রহমানের দ্বিতীয় সংসারের প্রথম সন্তান।

জানা গেছে, ইফাতের মা শাম্মী আখতার শিভলী ওরফে শিবু মতিউর রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রী। শাম্মী আখতারের বাবার বাড়ি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে। শাম্মী আখতার ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য (ফেনী-২) নিজাম উদ্দিন হাজারীর আত্মীয়।

এ বিষয়ে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী বলেন, ইফাত এনবিআর সদস্য মতিউর রহমানের দ্বিতীয় পক্ষের ছেলে। ধারণা করছি, রাগ করে মতিউর রহমান ইফাতের সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করেছেন। মতিউর রহমান নিয়মিত দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর নানা পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। 

অবশ্য ফেসবুকে বিতর্কের মুখে ওই ছাগল ইফাত আর বাসায় নেননি বলে দাবি করেছে ছাগলটির মালিক সাদিক অ্যাগ্রো কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু ছেলের ছাগল–কাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু আলোচনা এখন মতিউর রহমানের সম্পদের দিকে গড়িয়েছে। তাঁর কত সম্পদ রয়েছে, সেটি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নরসিংদীতে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নামে অনেক সম্পত্তি রয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে লিখছেন। এর মধ্যে শেয়ারবাজারে তাঁর বিপুল বিনিয়োগের খবরও বের হয়েছে। তিনি সরকারি কর্মকর্তা হলেও শেয়ারবাজারে প্লেসমেন্ট শেয়ারের বড় ব্যবসায়ী। তিনি নিজেও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিতে (১৯ জুন প্রচারিত) এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি বিভিন্ন কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ওই কোম্পানির মালিকদের কাছ থেকে কম দামে কিনে নিয়ে পরে বাজারে বেশি দামে বিক্রি করে অনেক মুনাফা করেছেন।

এনবিআর সদস্য মতিউর রহমান কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আছেন এখন। তিনি সোনালী ব্যাংকের পরিচালক পদেও রয়েছেন।