শিগগিরই মালয়েশিয়া যাবেন ১৮ হাজার কর্মী: প্রবাসীকল্যাণ সচিব

মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা ১৮ হাজার কর্মীকে দেশটিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব মো. রুহুল আমিন বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের কারিগরি কমিটি ও মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারিগরি কমিটি দুই দফা বৈঠক করেছে । ফেব্রুয়ারিতে আরেকটা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে মালয়েশিয়া একমত হয়েছে। আগামী এপ্রিলের মধ্যে এটি চূড়ান্ত হবে।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ কথা বলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব। 

এর আগে সকাল ৯টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার মোড়ে সার্ক ফোয়ারা চত্বরের এক পাশ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন মালয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুক কর্মীরা। বেলা সোয়া ১১টার দিকে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এরপর তারা মিছিল নিয়ে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

তিনি বলেন, যারা যেতে পারেননি, তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানো এবং রিক্রুটিং এজেন্সির কাছ থেকে তাদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা নিয়ে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। খুব শিগগির কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হতে পারে। ধাপে ধাপে মালয়েশিয়া যাবেন ১৮ হাজার কর্মী।

এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, মালয়েশিয়ার কাছে কর্মীদের তালিকা পাঠানো হয়েছে। আলোচনা শুরু হয়েছে, চলছে। পদ্ধতি এখনো ঠিক হয়নি। মালয়েশিয়ার মন্ত্রী পর্যায়ে প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। তারা সিদ্ধান্ত দিলে ১৫ দিনের মধ্যেই কর্মী পাঠানো শুরু হবে। প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে প্রবাসীদের জানানো হবে এবং তাদের পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তবে চেষ্টা করা হচ্ছে, কর্মীদের যেতে নতুন করে যাতে খরচের বোঝা তৈরি না হয়।

সবশেষ ২০২২ সালে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর পর থেকে একটি সিন্ডিকেটের (চক্র) বিরুদ্ধে বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চাপে বিদেশি কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। এর আগে কর্মীদের প্রবেশে ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত ছাড়পত্র নিয়েও ওই সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়া যেতে পারেনি ১৬ হাজার ৯৭০ জন কর্মী। যদিও আন্দোলনরত কর্মীরা সংখ্যাটি ১৮ হাজার বলে দাবি করছেন। এসব কর্মীদের টাকা রিক্রুটিং এজেন্সির কাছ থেকে আদায়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার।

এ–সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণ সচিব বলেন, ২ দিন আগ পর্যন্ত ৮১ শতাংশ কর্মীর টাকা ফেরত দিয়েছে রিক্রুটিং এজেন্সি। মন্ত্রণালয়ে তারা কর্মীর স্বাক্ষরসহ তালিকা জমা দিয়েছে। বৃহস্পতিবারের (২৩ জানুয়ারি) মধ্যে টাকা পরিশোধের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া আছে। যারা টাকা ফেরত দেবে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।