পিরোজপুর-ঝিনাইদহের ২০ গ্রামে ঈদ পালন

সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদের আগের দিনই পিরোজপুর তিন উপজেলার ১০ গ্রামের ৮ শতাধিক পরিবার এবং একইভাবে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার ১০ গ্রামের মুসল্লিরা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। 

রোববার (৩০ মার্চ) এ সব পরিবার ঈদ পালন করছেন। 

পিরোজপুর

শরিয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার শুরেশ্বর গ্রামের হজরত মাওলানা আহমেদ আলী শুরেশ্বর পীরের অনুসারীরা ১৫০ বছর ধরে প্রতি বছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম রোজা রাখাসহ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে থাকেন। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ওইসব পরিবার রোজা পালন করছে বলে তারা জানান।

পিরোজপুরে ঈদের জামাতে আদায় করছেন মুসুল্লিরা। ছবি: খবর সংযোগ

‎স্থানীয়রা জানায়, পিরোজপুরের মঠাবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া, কচুবাড়িয়া, সাপলেজা, ঝাটিবুনিয়া, খেতাছিড়া ও চকরগাছিয়া এ ছয় গ্রামের প্রায় ৬ শতাধিক পরিবার, জেলার কাউখালী উপজেলার  বেতকা, শিয়ালকাঠী ও পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৮০ পরিবার এবং নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের ৫০ পরিবার এই ঈদ পালন করছেন।

‎কাউখালি উপজেলার শিয়ালকাঠি মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম করেন মাওলানা জহিরুল ইসলাম বলেন, সকাল ৮টায় আমাদের মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এখানে আমরা সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করি।

পিরোজপুরে ঈদ উদযাপন। ছবি: খবর সংযোগ
‎নাজিরপুর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আল-আমিন জামে মসজিদে ইমামতি করেন মাওলানা কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, আমরা শুরেশ্বর পীরের অনুসারীরা প্রতিবছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা পালন করে আসছি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করছি।

ঝিনাইদহ

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার ১০ গ্রামবাসী  ঈদ উদযাপন করছে। রোববার (৩০ মার্চ) সকাল ৮ টায় উপজেলা শহরের ফুটবল মাঠ এলাকায় এ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজের ইমামতি করেন মাওলানা রেজাউল ইসলাম।

মুসল্লীরা জানায়, সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে রেখে তারা কয়েক বছর ধরে ঈদ জামাতের আয়োজন করে আসছেন। এবারও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চোরকোল, শ্যামনগর, যাদবপুর, হরিণাকুন্ডু উপজেলার দখলপুর, নারায়নকান্দি, বৈঠাপাড়া, বোয়ালিয়া, চটকাবাড়ীয়া, পারফলসী, পায়রাডাঙ্গা এবং শৈলকুপা উপজেলার ভাটইসহ জেলা শহর থেকে আগত মুসল্লিরা এ ঈদের নামাজ আদায় করেন। 

ঝিনাদহে ঈদগা ময়দানে একে অপরের সাথে কোলাকুলি করছেন। ছবি: খবর সংযোগ

হরিণাকুন্ডু থানার ওসি এম এ রউফ খান জানান, উপজেলার তিনটি জায়গায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শতাধিক মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন। আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এসব জায়গাতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।