৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭ লাখ টন গম আমদানি করবে সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি কমাতে প্রথমবারের মতো দেশটি থেকে সরকারিভাবে গম আমদানি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে খাদ্য অধিদপ্তর সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গম রপ্তানিকারক সমিতি ‘ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েটস’-এর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

রোববার (২০ জুলাই) রাজধানীর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এতে সই করেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর ও ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েটসের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেফ কে সওয়ার।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে ৭ লাখ টন উচ্চমানের গম আমদানি করা হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “এই সমঝোতা দুই দেশের মধ্যে আস্থা এবং পারস্পরিক বাণিজ্য সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”

সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরোপিত ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্কের প্রেক্ষাপটে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য আনার অংশ হিসেবে এই গম আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আসত কেবল সাহায্য হিসেবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম ছাড়াও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ, ভোজ্যতেল, তুলা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পণ্যের আমদানি বাড়িয়ে বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে চায় সরকার।

সম্প্রতি বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্র সফরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সফরের শেষ বৈঠকটি আগামী ২২ জুলাই আমেরিকান অ্যাপারেলস অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশনের (এএএফএ) সঙ্গে হওয়ার কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্ক নিয়ে দুই দফা আলোচনা হলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কহার ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫০ শতাংশে দাঁড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। এ নিয়ে তৃতীয় দফা আলোচনার জন্য বাংলাদেশ আবারও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সময় চেয়ে অনুরোধ পাঠিয়েছে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাণিজ্য কৌশল যেন শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর না হয়। রপ্তানি খাতে অন্যান্য অংশীদারদেরও গুরুত্ব আছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে উচ্চ দামে পণ্য আমদানির বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছে ৮৭৬ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য, যেখানে আমদানি হয়েছে মাত্র ২৫০ কোটি ডলারের পণ্য। সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় তৈরি পোশাক, আর আমদানি হয় স্ক্র্যাপ লোহা।

বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষায় সরকার এরই মধ্যে ১৯০টি পণ্যের ওপর শুল্কহার শূন্য করেছে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও ১০০ পণ্যে সম্প্রসারিত হতে যাচ্ছে। তবে এই সুবিধা শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, সব দেশই পাবে বলে জানানো হয়েছে।