রাস্তাঘাট অবরোধ’সহ সর্বত্রই বিশৃঙ্খলা

নির্বাচন পরবর্তী আইনের কঠোর প্রয়োগ সময়ের দাবি

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, তা খুব দ্রুতই আশার জায়গা থেকে উৎকণ্ঠার দিকে মোড় নিয়েছে। শেখ হাসিনার ভারত গমন পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সুসংগঠিত ও স্বার্থান্বেষী চক্র সারাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে তৎপর হয়ে উঠেছে। প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়হীনতা, সিদ্ধান্তহীনতা ও দৃশ্যমান দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক রাস্তাঘাট অবরোধ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং ভয়ভীতির সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা যেন হঠাৎ করেই সামাজিকভাবে বৈধতা পেয়ে গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো-এই বিশৃঙ্খলার বড়ো অংশে সামনে আসছে অল্প বয়সি কিছু যুবক, যারা হঠাৎ করেই নিজেদের ‘বিপ্লবী’ পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।

একটা সময় যাদের জীবন ছিল চরম অনিশ্চয়তায় ভরা-যারা তিন বেলা খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খেত-আজ তারাই হঠাৎ করেই গাড়িতে চলাফেরা করছে, ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বে জড়িয়ে পড়ছে। এই আকস্মিক উত্থান কেবল অর্থনৈতিক প্রশ্ন নয়, এটি একটি গভীর সামাজিক ও নৈতিক সংকেত। কারণ এই দৃশ্য জেনজি ও আলফা জেনারেশনের চোখে এক ধরনের ‘ভুল সফলতা’র মডেল তৈরি করছে।

আইনের শাসন যখন দুর্বল হয়, তখন সমাজে সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সুযোগসন্ধানী শক্তি। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা না এলে, কে বৈধ আর কে অবৈধ-এই সীমারেখা ঝাপসা হয়ে যায়। বর্তমানে বাংলাদেশ সেই ঝাপসা সময় অতিক্রম করছে। নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে প্রশাসনের মূল দায়িত্ব ছিল জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।

একদিকে পুলিশ প্রশাসনের মনোবল ভেঙে পড়েছে, অন্যদিকে সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কোথাও কোথাও ‘দেখেও না দেখার’ সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এর ফলাফল হিসেবে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে। কর্মজীবী মানুষ অফিসে যেতে পারছে না, শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে ভয় পাচ্ছে, ব্যাবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ছে। একটি রাষ্ট্র যদি তার নাগরিককে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।

গণঅভ্যুত্থান মানেই নৈরাজ্য নয়-এই মৌলিক সত্যটি আমরা যেন ভুলে যাচ্ছি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সফল গণআন্দোলনের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ‘সংহতি ও শৃঙ্খলা’। অথচ আমরা দেখছি, গণঅভ্যুত্থানের আবেগকে পুঁজি করে একটি অংশ ব্যক্তিগত ফায়দা লুটে নিচ্ছে। তারা নিজেদের জনগণের প্রতিনিধি দাবি করলেও বাস্তবে তারা জনগণেরই শত্রু হয়ে উঠছে।

আরেকটি গুরুতর দিক হলো-এই বিশৃঙ্খলা তরুণ প্রজন্মের মানসিক গঠনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। জেনজি ও আলফা জেনারেশন এমন এক সময়ে বড়ো হচ্ছে, যখন তারা দেখছে নিয়ম না মেনে, আইন না মেনে, শক্তি ও সন্ত্রাস দেখিয়ে দ্রুত ‘সফল’ হওয়া যায়। এটি একটি বিপজ্জনক বার্তা। কারণ ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এই প্রজন্মের হাত ধরেই। যদি তাদের কাছে আইনের শাসন একটি হাস্যকর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে রাষ্ট্র কাঠামো দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু নির্বাচন আয়োজন করা নয়, নির্বাচন-পরবর্তী শান্তি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রকৃত সার্থকতা তখনই আসে, যখন জনগণ নিশ্চিন্তে রাস্তায় চলাচল করতে পারে, মত প্রকাশ করতে পারে এবং আইনের আশ্রয় নিতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আস্থার জায়গাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ

প্রথমত, আইনের শাসনের প্রশ্নে রাষ্ট্রকে কোনো ধরনের আপোশ করা যাবে না। রাজনৈতিক পরিচয়, বয়স, কিংবা ‘বিপ্লবী’ তকমা- কোনো কিছুই অপরাধের ঢাল হতে পারে না। যেখানেই অবরোধ, ভাঙচুর, চাঁদাবাজি কিংবা সন্ত্রাস হবে, সেখানেই কঠোর ও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। শাস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না।

দ্বিতীয়ত, প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সুস্পষ্ট সমন্বয় প্রয়োজন। দায়িত্ব বিভাজন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধা থাকলে মাঠপর্যায়ে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে একক কণ্ঠে কথা বলতে হবে-আইনের বাইরে কেউ নয়।

তৃতীয়ত, তরুণদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে হবে। রাষ্ট্রকে স্পষ্ট করে বলতে হবে-অবৈধ পথে পাওয়া ‘সফলতা’ টেকসই নয়। শিক্ষিত, সৃজনশীল ও আইন মেনে চলা তরুণদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে তারা ভুল রোল মডেলের দিকে আকৃষ্ট না হয়।

চতুর্থত, রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতার বাইরে থেকেও দায়িত্বশীল আচরণ করা একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ। দলীয় স্বার্থে কিংবা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে যদি বিশৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তাহলে তার দায় ইতিহাস কাউকেই ছাড় দেবে না।

নেপালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার জায়গা তৈরি করে। সেখানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরপরই রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ছিল-আইনের শাসন দ্রুত প্রতিষ্ঠা করা, রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিশৃঙ্খলা যেন সামাজিক রোগে পরিণত না হয়, তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। সে কারণেই নেপালে গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে যে ধরনের রাস্তাঘাট অবরোধ, দখলদারিত্ব, ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধ্বংস, কিংবা হঠাৎ ক্ষমতাকেন্দ্রিক সুবিধাভোগীদের উত্থান দেখা যাচ্ছে-সে রকম ঘটনা বিস্তৃত আকারে ঘটতে পারেনি।

এর মূল কারণ ছিল নতুন সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কঠোর প্রতিরোধমূলক অবস্থান। নেপালে পরিবর্তনের পর রাষ্ট্র খুব স্পষ্ট করে একটি বার্তা দিয়েছিল-গণঅভ্যুত্থান মানে রাষ্ট্রের দুর্বলতা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা পুনর্গঠনের সূচনা। সেখানে কোনো গোষ্ঠী, ব্যক্তি বা তথাকথিত বিপ্লবীর জন্য আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। ফলে সুযোগসন্ধানী শক্তি মাথা তুলতেই পারেনি।

বাংলাদেশের বাস্তবতা তার বিপরীত। এখানে আমরা দীর্ঘদিন ধরে একটি আত্মঘাতী রাজনৈতিক সংস্কৃতি লালন করে এসেছি-যেখানে প্রতিশোধ, ধ্বংস আর ব্যক্তিগত দখলকেই ‘বিচার’ বা ‘পরিবর্তন’ হিসেবে দেখা হয়। ক্ষমতা বদলের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সম্পদ ভাঙচুর, কার্যালয় লুট, বাড়িঘর দখল কিংবা অগ্নিসংযোগকে যেন স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়, অথচ জনগণের কোনো কল্যাণ হয় না।

সবচেয়ে বড়ো প্রশ্ন হলো-এই ধ্বংসের লাভটা কার? জনগণের নয়, রাষ্ট্রের নয়-লাভবান হয় কেবল অদৃশ্য একটি গোষ্ঠী, যারা বিশৃঙ্খলার ভেতর দিয়ে নিজেদের জায়গা তৈরি করে নেয়।

নেপালের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হলো-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের ব্যবস্থাপনা। সেখানে রাজনৈতিক নেতা ও উচ্চপদস্থ আমলাদের অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে। সেই সম্পদ ধ্বংস করা হয়নি, ব্যক্তি মালিকানায় তুলে দেওয়া হয়নি, কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লুটের বস্তুতে পরিণত করা হয়নি। বরং সরকারিভাবে ‘রিসিভার’ নিয়োগ করে সেই সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।

এই ব্যবস্থার ফলে একদিকে যেমন : সম্পদের মূল্য সংরক্ষিত থেকেছে, অন্যদিকে সেগুলো জনগণের কল্যাণে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা খাতে এসব সম্পদ যুক্ত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-এটি একটি শক্ত উদাহরণ তৈরি করেছে। দুর্নীতিবাজদের জন্য বার্তা ছিল স্পষ্ট: অবৈধ সম্পদ শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের কাছেই ফিরে যাবে।

বাংলাদেশে আমরা ঠিক উল্টো পথেই হাঁটি। দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক নেতা বা সচিবদের সম্পদ উদ্ধার করার পরিবর্তে আমরা হয় তা ধ্বংস করি, নয়তো নীরবে ব্যক্তি মালিকানায় চলে যেতে দিই। কোনো বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়, কোনো কার্যালয় ভাঙা হয়, কোনো জমি দখল হয়ে যায়। এতে আবেগি তৃপ্তি হয় বটে, কিন্তু রাষ্ট্রের ক্ষতি অপূরণীয় হয়ে যায়। যে সম্পদ জনগণের কল্যাণে কাজে লাগতে পারত, তা মুহূর্তে ছাই হয়ে যায়।

এটি কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; এটি একটি গভীর মানসিক সংকটের প্রতিফলন। আমরা এখনো রাষ্ট্রকে ‘সবার’ বলে ভাবতে শিখিনি। রাষ্ট্রীয় সম্পদকে আমরা প্রতিপক্ষের সম্পদ হিসেবে দেখি, আর ধ্বংসকে বিজয় বলে ধরে নিই। এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে না এলে কোনো গণঅভ্যুত্থানই টেকসই পরিবর্তন আনতে পারে না।

নেপালের অভিজ্ঞতা আমাদের শেখায়-আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা মানে শুধু গ্রেপ্তার বা দমন নয়, এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। দুর্নীতিবাজদের বিচার, অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, এবং সেই সম্পদ জনগণের কল্যাণে ব্যবহার-এই তিনটি ধাপ একসঙ্গে চলতে হয়। এর কোনো একটি বাদ পড়লে পুরো প্রক্রিয়াই ভেঙে পড়ে।

বাংলাদেশে যদি আমরা সত্যিই পরিবর্তন চাই, তাহলে আমাদের এই ধ্বংস-সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ব্যক্তি আক্রোশ নয়, প্রাতিষ্ঠানিক বিচারই হতে হবে আমাদের পথ। রাজনৈতিক নেতা বা সচিবদের অবৈধ সম্পদ পুড়িয়ে ফেলা নয়, বরং আইন অনুযায়ী জব্দ করে রাষ্ট্রীয় রিসিভারের মাধ্যমে পরিচালনা করা দরকার। এতে একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।

এই দৃষ্টান্তই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ। কারণ মানুষ যখন দেখবে- দুর্নীতি করে লাভ নেই, শেষ পর্যন্ত সব রাষ্ট্রের হাতে ফিরে যায়-তখন দুর্নীতির প্রবণতাও কমবে। ভয় নয়, শাস্তির নিশ্চিততাই আইনের শাসনের মূল ভিত্তি।

সবচেয়ে বড়ো কথা, এই পথ বেছে নিলে তরুণ প্রজন্মের সামনে একটি সঠিক বার্তা যাবে। তারা দেখবে-রাষ্ট্র ধ্বংস করে নয়, রাষ্ট্র গড়ে তুলে প্রতিশোধ নেয়। আইন মানার মধ্যেই শক্তি, ধৈর্যের মধ্যেই বিজয়। জেনজি ও আলফা জেনারেশন তখন আর বিশৃঙ্খলাকে রোল মডেল ভাববে না; তারা ভাববে রাষ্ট্রের অংশ হওয়াকেই গৌরবের বিষয়।

আমাদের এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে- আমরা কি ধ্বংসের রাজনীতি চালিয়ে যাব, নাকি নেপালের মতো কঠোর কিন্তু দূরদর্শী পথ বেছে নেব? যদি সত্যিই দেশ ও জনগণের কল্যাণ চাই, তাহলে ব্যক্তি মালিকানা আর ধ্বংসের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংরক্ষণ ও ন্যায়ের শাসনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতেই হবে। এটাই টেকসই পরিবর্তনের একমাত্র পথ।

সবশেষে বলতে হয়- বাংলাদেশ আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আমরা চাইলে এই অস্থিরতাকে দীর্ঘমেয়াদি নৈরাজ্যে পরিণত করতে পারি, আবার চাইলে এটিকে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্রে রূপান্তরের সুযোগ হিসেবেও নিতে পারি। সিদ্ধান্ত আমাদেরই।

আইনের শাসন কোনো বিলাসিতা নয়; এটি রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড। সেই মেরুদণ্ড যদি ভেঙে পড়ে, তাহলে কোনো বিপ্লব, কোনো পরিবর্তনই টিকে থাকবে না। নির্বাচন-পরবর্তী এই সময়ে কঠোর হাতে আইন প্রয়োগ করা মানে দমন নয়, এটি ভবিষ্যৎ রক্ষার একমাত্র পথ। আজ যদি রাষ্ট্র দৃঢ় না হয়, তবে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।

লেখক: রাজনৈতিক কর্মী ও কলামিস্ট