ড. এম ওসমান ফারুক

আমরা চাই না আর কোনো অশুভ সরকার এদেশে আসুক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও চার দলীয় জোট সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক বলেছেন, ‘আমাদের দেশে যে সংকটগুলো রয়েছে সেই সংকটগুলো সম্পর্কে আপনারা অবহিত রয়েছেন। এই মুহূর্তে জনগণের ঐক্য অত্যন্ত প্রয়োজন। জনগণের ঐক্য এই কারণে প্রয়োজন যে, আমরা চাই না আরেকটি অশুভ সরকার এদেশে আসুক। এটা আমরা কেউ চাই না এবং সেটি করার জন্য যা প্রয়োজন সেটি হলো, সর্বস্তরের ঐক্য।’

বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জেলা বিএনপি আয়োজিত ‘তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. এম ওসমান ফারুক বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য, ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে ঐক্য, আমজনতার মাঝখানে ঐক্য। আর ঐক্য এই কারণে প্রয়োজন যে, আমরা আর কোনো সময় সন্ত্রাসী বা একচ্ছত্র সরকার এদেশে স্থান দেব না। কাজেই যতটুকু সম্ভব আমি বিভিন্ন জায়গায় যাই আমি সেই বাণীটিই পাঠাই যে, এই দেশের মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এদেশের মানুষ গণতন্ত্রপ্রিয়। গণতন্ত্রকে যারা হত্যা করতে চায়, বা ভবিষ্যতে চাইবে, তাদের কোনো ঠাঁই এদেশে হওয়ার প্রয়োজন নেই।’

সভায় তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২২ জানুয়ারি বিকেলে ভৈরব স্টেডিয়ামে দলের জনসভায় বক্তৃতা করবেন। সেখানে আপনারা অভূতপূর্ব একটা সম্মিলন দেখবেন।’

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানকে আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি। তার চেয়ে দেশপ্রেমিক এবং দেশের জন্য কাজ করা রাজনৈতিক নেতা পাওয়া কঠিন। আমি আশা করি, কামনা করি আপনারা সেদিন তাকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা জানাবেন।’

জেলা বিএনপির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব কুলিয়ারচ) আসনের বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী মো: শরিফুল আলমের সভাপতিত্বে ভৈরব পৌর শহরের নিউটাউন এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের প্রার্থী মো: মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া কটিয়াদী) আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো: জালাল উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা প্রমুখ।

উল্লেখ্য, আগামী ২২ জানুয়ারি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু করবেন। মাজার জিয়ারতের পর বিএনপির চেয়ারম্যান সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে পৃথক তিনটি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। ঢাকায় ফেরার পথে তিনি বিকেলে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় ভৈরব স্টেডিয়ামে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেবেন।

বিএনপি জানিয়েছে, হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমেই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সব সময় নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতেন। খালেদা জিয়ার সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতেই তারেক রহমান সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন। 

তফসিল অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। এরপর ২২ জানুয়ারি শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার।

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ার পর ঢাকার বাইরে এটিই তারেক রহমানের প্রথম সফর। এবং এটি নির্বাচনী সফর। এ সফরে তিনি সিলেটের সঙ্গে কিশোরগঞ্জকেও রেখেছেন।

কিশোরগঞ্জের জনসভায় তিনি (তারেক রহমান) জেলার ছয়টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেবেন।