গণতন্ত্র কেবল জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা পর্যায় পর্যন্ত এর চর্চা কার্যকর করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে সিলেটে আয়োজিত ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে রোগীর তুলনায় হাসপাতাল ও চিকিৎসকের সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। বড় হাসপাতাল নির্মাণ একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, কিন্তু রোগীরা তাৎক্ষণিক সেবা চায়। তাই দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ’ (PPP) জরুরি।
এছাড়া প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল না করে উন্নত বিশ্বের মতো নির্দিষ্ট রোগের জন্য নির্দিষ্ট রেফারেল হাসপাতালের পরিকল্পনা করার কথা জানান তিনি।
প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কারদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাধারণ রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তারেক রহমান এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়ে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এই কার্ডটি পরিবারের প্রধান নারীর নামে ইস্যু করা হবে। এর মাধ্যমে মাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা বা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘নারীরা অর্থ পেলে তা সন্তানের শিক্ষা ও পরিবারের স্বাস্থ্যে ব্যয় করেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল করে এবং নারীর সামাজিক মর্যাদা বাড়ায়।’
বিদেশে অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, প্রতি বছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষ বিদেশে গেলেও বড় অংশই অদক্ষ হওয়ায় তারা কাঙ্ক্ষিত আয় করতে পারেন না। বিএনপি কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করার পাশাপাশি ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেবে, যাতে তরুণরা জাপান ও ইউরোপের মতো উন্নত শ্রমবাজারে দক্ষ হিসেবে কাজ করতে পারে।
পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ৮০ কোটি গাছ রোপণের বিশাল পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান। বায়ুদূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন।
কৃষিখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষককে কেবল প্রতীকী সহায়তা নয়, বরং কার্যকর সহায়তা দিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র হাজার বছরের চর্চার ফল। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা থেকে প্রশাসন—সব জায়গায় গণতান্ত্রিক অনুশীলন না থাকলে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’