ভোটের দিন সকালে কেউ যেন আগেভাগে ভোটকেন্দ্র দখল নিতে না পারে- সে লক্ষ্যে ভোটারদের ফজরের নামাজের সময়ই কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “১২ তারিখ সকালে যার যার ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে জামাত করে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। এতে আগে থেকে কেউ সেখানে অবস্থান নিতে পারবে না।”
বুধবার গভীর রাতে গাজীপুরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে এক জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা পরে সভাস্থলে পৌঁছে প্রথমেই দুঃখ প্রকাশ করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, গত দেড় দশকে দেশের মানুষ যেভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে, গাজীপুরবাসী তা কাছ থেকে দেখেছে। তবে ২০২৪ সালের আন্দোলনে গাজীপুরের মানুষ ঢাকায় গিয়ে প্রমাণ করেছে—গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে এ জেলার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সেই অবদান যেন বৃথা না যায়, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
গাজীপুরকে শুধু শিল্পনগরী নয়, ‘দেশের গার্মেন্টস রাজধানী’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই দেশে গার্মেন্টস শিল্পের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন। যার ফলে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। একইভাবে প্রবাসে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং নারীশিক্ষা বিস্তারে বিএনপি সরকারের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তার বক্তব্যে দাবি করা হয়, ওয়ান থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত মেয়েদের বিনা মূল্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এসব উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দেশের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য প্রকৃত অর্থে যারা কাজ করেছে, তারা হলো বিএনপি।
আগামী নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে গাজীপুরসহ দেশজুড়ে নতুন শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তারেক রহমান। এতে নারী ও তরুণদের জন্য বাড়তি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়া শ্রমজীবী নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, জয়দেবপুর রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস নির্মাণ, শিল্প এলাকায় ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন এবং শ্রমিকদের জন্য স্বল্পমূল্যের আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
গাজীপুরের তুরাগ, লবণদহ ও চিলাই খাল পুনঃখননের কথাও উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হলে এসব খাল খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা হবে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য এলাকাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাও গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার।