ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনের ফলাফল পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন আসনটির ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত তিনটার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে এসে এ দাবি জানান তিনি।
মামুনুল হক বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল ইতিবাচকভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিকে পুনর্গঠন করা এবং নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করার যে নেতিবাচক সংস্কৃতি, তা থেকে বেরিয়ে আসা। কিন্তু আমার আসন ঢাকা-১৩ এর ফলাফল নিয়ে এমন কিছু সুনির্দিষ্ট অসঙ্গতি সামনে এসেছে, যা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘আমার আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ভোটের ব্যবধান মাত্র ২২০০-এর কিছু বেশি। অথচ ব্যালট পেপারের নকশাগত ত্রুটির কারণে বিপুল পরিমাণ ভোট বাতিল করা হয়েছে। ব্যালটে আমার প্রতীক ছিল প্রথম কলামের শেষ সারিতে, যার ডান পাশের ঘরটি খালি ছিল। সাধারণ ভোটাররা প্রতীকের ওপর সিল না মেরে পাশের খালি জায়গায় সিল দিয়েছেন।
মামুনুল হক বলেন, ‘অবাক করার বিষয় হলো, একই ধরনের ভোট ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাস সাহেবের ক্ষেত্রে বৈধ গণ্য করা হলেও আমার ক্ষেত্রে তা বাতিল করা হয়েছে। ৫০টি কেন্দ্রের ফলাফলেই প্রায় ১২০০ ভোট বাতিল হয়েছে; পুরো আসনে এই সংখ্যা ৩০০০ থেকে ৩৫০০ হতে পারে, যা আমার হারের ব্যবধানের চেয়ে অনেক বেশি।’
অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের দেওয়া অনেক শিটে সংখ্যার কাটাকাটি বা টেম্পারিং দেখা গেছে, যা ভোটের ফলাফলের বড় ব্যবধান তৈরি করে দিয়েছে। প্রার্থী ও প্রতীক চূড়ান্ত হওয়ার আগেই পোস্টাল ব্যালট পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে ৫০০-এর বেশি ভোট এমন প্রতীকে পড়েছে, যা জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে পরে আর কার্যকর ছিল না এবং মাঠে আমাদের প্রতিপক্ষ দলের কর্মীদের জাল ভোট দিতে দেখা গেছে এবং কয়েকজন ধরাও পড়েছে।’
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মামুনুল হক বলেন, ‘আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলে তিনি আমাকে সচিবের কাছে পাঠান, আর সচিব মহোদয় বলছেন এটি রিটার্নিং কর্মকর্তার এখতিয়ার।’
তার অভিযোগ, ‘কেউ দায় নিচ্ছেন না। আমি এখনই পুরো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছি না, তবে আমার দাবি, সুষ্ঠু বিচার ও স্বচ্ছতার স্বার্থে আমার আসনের ভোটগুলো পুনরায় গণনা করা হোক।’