ভোরে জামায়াত আমিরের স্ট্যাটাস ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’

ভাষা ও পরিচয় বিষয়ক বিতর্ককে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানটি। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি সংক্ষিপ্ত ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টা ৮ মিনিটে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন ডা. শফিকুর রহমান। মাত্র দুই শব্দের সেই স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আগামীর বাংলাদেশ ইনসাফের বাংলাদেশ। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’

পোস্টটি দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত ওই পোস্টে ১ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি রিয়েকশন পড়েছে এবং মন্তব্য করেছেন প্রায় ২০ হাজারের বেশি মানুষ। আড়াই হাজারের বেশি ব্যবহারকারী পোস্টটি শেয়ার করেছেন।

মূলত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের শুরু।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলাকে যদি আমার মায়ের ভাষা বলতে হয় তাহলে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ চলবে না। ইনকিলাব আমাদের ভাষা না।

সমঝোতার চেয়ে যুদ্ধই কি এখন তেহরানের কাছে শ্রেয়?সমঝোতার চেয়ে যুদ্ধই কি এখন তেহরানের কাছে শ্রেয়?


মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষ-বিপক্ষ যুক্তির ঝড় ওঠে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম জনপ্রিয় এই স্লোগানটির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ লিখে পোস্ট দিতে শুরু করেন। নেটিজেনদের দাবি, এই স্লোগানটি বাংলাদেশের মুক্তি ও সংগ্রামের ইতিহাসের সাথে মিশে আছে।

উল্লেখ্য যে, ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানটি রাজপথে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। বর্তমানে ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারিতে এই স্লোগানটির ভাষাতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।