রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার পদে কারা আসছেন?

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের পথচলার ১৫ দিন অতিবাহিত হলো। নতুন সরকারের প্রাথমিক কার্যক্রম গুছিয়ে আনার পর এখন সবার নজর রাষ্ট্রের দুটি অতি গুরুত্বপূর্ণ পদের দিকে— রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার। আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে এই দুই পদে অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের বসাতে চায় বিএনপি।

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় খন্দকার মোশাররফ
বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো জানাচ্ছে, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতার কারণে দলের ভেতরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি। যদিও শুরুতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামও আলোচনায় ছিল, তবে বর্তমানে খন্দকার মোশাররফ হোসেনই এই দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

তবে বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ না হওয়া এবং সাংবিধানিক জটিলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘বিএনপিতে রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো যোগ্য নেতা অনেকেই আছেন। তবে বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ তো শেষ হয়নি, তাই এখনই এ নিয়ে আলোচনার যৌক্তিকতা কতটুকু তা ভাবার বিষয়।’ অবশ্য দলের বড় একটি অংশ মনে করে, বিগত সরকারের নিয়োগকৃত রাষ্ট্রপতিকে পরিবর্তন করা রাজনৈতিকভাবে জরুরি।

স্পিকার পদে তিন হেভিওয়েট

সংসদ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব বা ‘স্পিকার’ পদের জন্য তিনজনের নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে:
১. মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ: বর্তমান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এবং ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর ইমেজ এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে স্পিকার পদের শক্তিশালী দাবিদার করে তুলেছে।
২. ড. ওসমান ফারুক: সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এবং অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
৩. অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন: সুপ্রিম কোর্টের এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সংবিধান ও সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধিতে অত্যন্ত দক্ষ। সংসদীয় বিতর্কে ভারসাম্য রক্ষায় তাঁর নামটিও আলোচনায় রয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার পাচ্ছেন বিরোধী দল (জামায়াত)
সংসদীয় গণতন্ত্রে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে নতুন সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর প্রতি সম্মান জানিয়ে ডেপুটি স্পিকারের পদটি প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জামায়াতকে তাদের পক্ষ থেকে যোগ্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, ১২ মার্চ সংসদের প্রথম বৈঠকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হবে। সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে এই নির্বাচন সম্পন্ন হবে। যেহেতু সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই দলের মনোনীত প্রার্থীরাই যে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন তা প্রায় নিশ্চিত।

এখন দেখার বিষয়, জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা ও আগামীর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি শেষ পর্যন্ত কাদের ওপর আস্থা রাখে।