ক্ষমতায় বসার পর বিএনপির সুর পাল্টে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচিত হলে ফ্যাসিবাদের হাতে হওয়া প্রতিটি খুন, গুম ও নির্যাতনের বিচার করবে। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর এখন তাদের সুর ভিন্ন। বিচার তো তারা করছেই না, উল্টো গত চার মাসে দেশের মাটিতে ৬০০ জনের বেশি মানুষ নির্মমভাবে খুন হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম-খুনের বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের যাতাকলে পৃষ্ঠ এই জাতিকে আল্লাহ তাআলা ছাত্র, শ্রমিক ও যুব জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মাত্র দুটি বছর আগে মুক্তি দিয়েছিলেন। সেই সময়ে যে দলটি (বিএনপি) আমাদের মতোই মজলুম ও নির্যাতিত ছিল, আজ তারা ক্ষমতায়। অথচ দুঃখজনকভাবে এই দলটি এখন নিজেদের কর্মীই নিজেরা খুন করছে। যাদের নিজেদের কর্মীদের প্রতি কোনো দায় ও দরদ থাকে না, ২০ কোটি মানুষের জন্য তাদের কী দায় থাকবে? এমন কোনো লক্ষণ আমরা দেখতে পাচ্ছি না।
তিনি আরও বলেন, লজ্জার বিষয় হলো, বিএনপি ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হওয়ার কথা বলে ঠিক ফ্যাসিবাদের রাজপথ ধরেই এখন হাঁটা শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, বিভিন্ন ব্যাংকে অযাচিত হস্তক্ষেপ, বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজগুলো দলীয় অনুগত লোক দিয়ে দখল করা, জেলায় জেলায় নিজেদের প্রশাসক বসানো, এমনকি খেলার মাঠটাও তারা দলমুক্ত রাখতে পারেনি। এভাবে তারা কার্যত আবার একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকেই এগোচ্ছে।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ বারবার বিপ্লবের সাক্ষী। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন, না হয় যাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করুন। আপনারা যে পথে হাঁটছেন, সংসদের ভেতরে আমরা তার প্রতিটি বিষয়ের প্রতিবাদ করছি। দুই-তৃতীয়াংশ ভোট আপনারা কীভাবে পেয়েছেন, তা আপনারাই ভালো জানেন। এ দেশের জনগণও তা জানে এবং এই ব্যাপারে আপনাদের দলের ভেতর থেকে ও বিগত সরকারের মধ্য থেকে ইতোমধ্যে কিছু রাজসাক্ষীও পাওয়া গেছে।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে আমিরে জামায়াত বলেন, বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করব, মজলুম ছিলেন, জালেম হবেন না। মেহেরবানী করে বিচারগুলো নিশ্চিত করুন। শুধু অতীতের ফ্যাসিবাদের বিচারই নয়, বর্তমান সরকারের সময়ে এই রাস্তায় আমাদের কলিজার টুকরা, বিপ্লবের প্রতীক শরিফ উসমান হাদিকে হত্যা করে বিচার ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়নি। কাকে খুশি করার জন্য এবং কোন সত্যকে আড়াল করতে এটা করা হচ্ছে, জনগণ তা জানতে চায়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ এ দেশের মানুষের অন্তরে ও মগজে মজবুত ভাবে গেঁথে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আদর্শকে নির্মূল করার চিন্তা করবেন না। যদিও আপনাদের একজন সিনিয়র নেতা তা ঘোষণা করেছেন। তবে অতীতে যারা নির্মূল করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তারা নিজেরাই আজ নির্মূল হয়ে গেছেন।
নেতাকর্মী ও উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, বেশি নির্মূল নির্মূল করবেন না, এটি এক ধরনের ভাইরাস। এই ফ্যাসিবাদের ভাইরাস, চাঁদাবাজির ভাইরাস, দুর্নীতির ভাইরাস ও দলীয় শাসনের ভাইরাস থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য আরেকটি বিপ্লব অনিবার্য হয়ে উঠেছে।