ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সম্প্রতি পুলিশ ও মাদরাসাছাত্রদের সংঘর্ষের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবসময় ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেছেন’ এবং মাদরাসাছাত্রদের পাশে দাঁড়াননি। একই সঙ্গে সংঘর্ষে ৩০ জন মাদরাসাছাত্র আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় জামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসায় কওমি ছাত্র ও শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন পাটওয়ারী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রসঙ্গে পাটওয়ারী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবসময় শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেছেন। তিনি মাদরাসা ছাত্রদের পাশে দাঁড়াননি। তাদের পক্ষে সুষ্ঠু বিচার করেনি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সম্প্রতি পুলিশ ও মাদরাসাছাত্রদের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মূল বিষয় ছিল, মাদরাসাছাত্ররা পুলিশ লাইন্সে গানের অনুষ্ঠান বন্ধ করেনি। বরং পুলিশ ৩০ জন মাদরাসাছাত্রকে আহত করেছে।
এদিকে একই বৈঠকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির নেতাকর্মী ও কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের মধ্যে তৈরি হওয়া বিরোধেরও সমাধান হয়েছে বলে জানান পাটওয়ারী। তার ভাষ্য, হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশের পর আলেম ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় জামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসায় গিয়ে কওমি ছাত্র ও শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বৈঠকে হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি এবং পরে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।
বৈঠক শেষে পাটওয়ারী বলেন, মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক ও শ্রদ্ধা রয়েছে। জুলাই আন্দোলনে তারা একসঙ্গে ছিলেন। ওস্তাদরা তাদের তালেব হিসেবে মনে করেন। অনেক আলেম তাদের দুঃখ প্রকাশ করতে বলেছেন। দুঃখ প্রকাশ করলে কেউ ছোট হয় না। তাই তারা সেখানে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ওস্তাদদের দোয়া নিয়েছেন। তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ছাত্ররা দাবি জানিয়েছেন, হাসনাত আবদুল্লাহ জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে সঠিক তথ্য আবার সংসদে উপস্থাপন করতে হবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, আলেম-ওলামাদের সঙ্গে তারা রাজপথে ছিলেন। যেহেতু তারা সবাই ‘এক ঘরের’, তাই আলেমরা বিষয়টি দ্রুত সমাধান করতে বলেছেন। পরে হাসনাত আবদুল্লাহ তার বক্তব্যের জন্য ফেসবুকে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘অনেকে বাইরে থেকে উল্লাস করছেন। তাদের বলব, এটা আমাদের ঘরের সমস্যা। এর সমাধান হয়েছে। ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে।’
বৈঠকে মাদরাসার পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মুহতামিম মুফতি মোবারক উল্লাহ, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আলী আকবর এবং কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা খালেদ সাইফুল্লাহসহ নেতারা।