অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, ‘আশা করি প্রধান উপদেষ্টা সংস্কার শেষ করেই ২০২৫ সালের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করবেন। এ দেশের জনগণ দ্রুত তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়। মানুষ ভোট দিতে চায়।’
শনিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সদরের এইচ জে পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে যুব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘ইতিহাস বলে ফ্যাসিবাদীরা একবার পালিয়ে গেলে আর কখনোই ফিরে আসে না। তাই শেখ হাসিনাও আর কোনো দিন এ বাংলার মাটিতে ফিরে আসবেন না। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়। জনগণের ভোটে আমরা ক্ষমতায় এলে কারও ওপর জুলুম করব না। থাকবে না কোনো অন্যায়-অত্যাচার। এ দেশের সব ধর্মের মানুষ নিয়ে মিলেমিশে থাকব।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা আছে, আমরা ক্ষমতায় এলে নারীদের অবমূল্যায়ন হবে। কিন্তু আমি বলতে চাই, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে নারীরা সর্বোচ্চ সম্মান পাবেন। তাঁদের অধিকার পাবেন। আমার স্ত্রীও একজন চাকরিজীবী, আমার তিন মেয়ে চাকরি করে। আমরা ক্ষমতায় গেলে এ দেশের নারীরা চাকরি করতে পারবেন, তাঁদের কোনো সমস্যা হবে না; বরং এ দেশের নারীরা আরও নিরাপত্তার মধ্যে থাকবেন।’
যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘যুবকেরাই হলো আমাদের শক্তি। কিন্তু এ দেশে মাদক যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমি প্রশাসনকে বলব, মাদকের সঙ্গে যারাই জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে যেন প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আমরা চাই যুবকেরা বেকার থাকবে না। তোমরা বিভিন্ন চাকরি অথবা উদ্যোক্তা হও, আমি তোমাদের পাশে এসে সব ধরনের সহযোগিতা করব। সব সময় তোমাদের পাশে থাকব।’
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে যুব সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবুল হাসনাত মু. আব্দুল হালিম, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরীর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান, কুমিল্লা অঞ্চল টিম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমির অ্যাডভোকেট শাহজাহান, কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানসহ ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।