ধর্মীয় সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরুর নামে বিভাজন মানেন না বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা সাফ বলেছি, আমরা সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু মানি না। এ দেশের যারা নাগরিক তারা সবাই সমমর্যাদাবান গর্বিত নাগরিক। সমান অধিকারের ভিত্তিতে এ দেশকে দেখতে চাই। এখন অনেকে এ কথা বলতে শুরু করেছেন। ছোট্ট একটা দেশ, এত ভাগ কিসের আবার। জাতীয় স্বার্থে আমরা সবাই এক। কারণ দেশ বাঁচলে আমিও বাঁচব, সবাই বাঁচবে। অশান্তি হলে সবাইকে তা ভোগ করতে হবে। আমরা একটা শান্তিপূর্ণ মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
শনিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতাদেরর সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
সম্প্রতি মন্দিরে হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে জানি না। আপনার কাছে প্রথম শুনলাম। যদি হয়ে থাকে আমি এর নিন্দা জানাই। আমি দাবি করি, যারা দুষ্কৃতকারী; তাদের ধরে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।’
মতবিনিময় সভায় দেওয়া বক্তব্যে জামায়াতের এ শীর্ষ নেতা বলেন, ‘ধর্ম তো চাপিয়ে দেওয়ার কোনো বিষয় নয়। কে কোন ধর্ম অনুসরণ করবে এটা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ব্যাপার। যারা চাপাচাপি করে তারা ধর্মের সেন্টিমেন্ট বোঝে না। সে যে ধর্মেরই হোক। এটা বিভিন্ন দেশে ঘটে, বিভিন্ন ধর্মের পক্ষ থেকে ঘটে। এসবগুলোকে আমরা নিন্দা করি। চাপাচাপির কোনো জায়গা নেই। আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখব।’
যেমন বাংলাদেশ দেখতে চান তা বর্ণনা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এ রকম একটা বাংলাদেশ দেখতে চাই যেখানে একজন নেতার নির্বাচিত হওয়ার আগে যে সম্পদ ছিল নির্বাচিত হওয়ার পর তা কমবে, বাড়বে না। কারণ তিনি জনসভা করতে গিয়ে শুধু সরকারি টাকায় পারবেন না, তার নিজের টাকাও তাকে খরচ করতে হবে। সরকারি দায়িত্বে নিয়োগ হওয়ার পর তিনি নিজের দিকে খেয়াল দিতে পারবেন না তখন জনগণের বোঝা তাকে বহন করতে হবে।’