আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে আয়োজনের দাবি জানিয়ে রাজপথে সক্রিয় রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন, পিআর পদ্ধতি চালু এবং আরও তিন দফা দাবি নিয়ে দলটি দেশজুড়ে কর্মসূচি চালাচ্ছে।
এদিকে, বিএনপি ও তার মিত্ররা পিআর পদ্ধতির বিরুদ্ধে ঘোর আপত্তি জানালেও, জামায়াত এই পদ্ধতিকে অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য নির্বাচনের আগে নানা রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশল নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা-সমালোচনা।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্যই মাঠে আছি। রাজপথে আন্দোলন আমাদের নির্বাচনী কৌশলেরই অংশ। জনগণের ইস্যুতে ছাড় দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংস্কারের জন্য আমরা সময় দিয়েছি, কিন্তু বাস্তবায়ন না হলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।’
দলটির আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আমাদের দাবির ভিত্তিতেই হচ্ছে। তাই নির্বাচন বয়কটের প্রশ্নই ওঠে না। ৩০০ আসনে আমরা প্রার্থী চূড়ান্ত করেছি এবং প্রচার-প্রচারণাও চলছে।’
তিনি আরও জানান, নির্বাচনী জোট গঠনের লক্ষ্যে কয়েকটি ইসলামি দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের প্রত্যাশাতীত সাফল্য জাতীয় নির্বাচনে কাজে লাগাতে চায় জামায়াত। এ লক্ষ্যেই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের একযোগে প্রচারে নামার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নীতিগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, এবং মাঠে থাকতেই চায় জামায়াত। গণসংযোগ, জনসভা, অনলাইন প্রচারণা—সব দিকেই দলটির তৎপরতা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক মাসুদ কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেবে—এটা প্রায় নিশ্চিত। আন্দোলনের মাধ্যমে তারা একটি রাজনৈতিক আওয়াজ তুলছে, পিআর পদ্ধতি নিয়েও জনমত গঠনের চেষ্টা করছে। তবে আগামী নির্বাচনে এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’
তিনি মনে করেন, জামায়াত জনগণের মধ্যে পিআর নিয়ে সচেতনতা তৈরির কৌশল হিসেবে বুকলেট বা লিফলেটও ছাপাতে পারে।
এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ৫ দফা দাবিতে ৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। জামায়াতের দাবি হচ্ছে- জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করা; আগামী জাতীয় নির্বাচনে সংসদের উভয়কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা; অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা; ফ্যাসিস্ট সরকারের সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।