ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র রজব মাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই মাসেই সংঘটিত হয়েছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্ময়কর ও অলৌকিক ঘটনা ‘ইসরা ও মেরাজ’। মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে জেরুজালেমের মসজিদুল আকসা হয়ে সপ্তম আসমান পাড়ি দিয়ে মহান রব্বুল আলামিনের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। এই ঐতিহাসিক সফর কেবল অলৌকিকতা নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর জন্য রেখে গেছে গভীর জীবনদর্শন ও শিক্ষা।
মেরাজের সেই মহিমান্বিত সফর থেকে প্রাপ্ত প্রধান চারটি শিক্ষা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. শোনা ও মানার (সামি’না ওয়া আত্বা’না) মানসিকতা
মেরাজের রাতে যখন মহান আল্লাহ প্রথমে ৫০ ওয়াক্ত নামাজের নির্দেশ দেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো দ্বিধা বা আপত্তি ছাড়াই তা গ্রহণ করেন। এটি মুমিনের জন্য বড় শিক্ষা যে, আল্লাহ ও তার রাসুলের যেকোনো আদেশ বিনা প্রশ্নে মেনে নেওয়াই প্রকৃত আনুগত্য।
২. কল্যাণকামী উপদেশ গ্রহণের গুরুত্ব
নামাজের সংখ্যা কমানোর বিষয়ে হযরত মুসা (আ.) এর পরামর্শ গ্রহণ করেছিলেন মহানবী (সা.)। তিনি চাইলে সেই উপদেশ উপেক্ষা করতে পারতেন, কিন্তু অন্যের সঠিক পরামর্শকে সম্মান জানানো এবং তা গ্রহণ করার মাধ্যমে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এটি আমাদের শেখায় যে, নিজের ভুল সংশোধন বা জনকল্যাণে অন্যের উপদেশ গ্রহণে অহংকার করা উচিত নয়।
৩. উম্মতের প্রতি নিঃস্বার্থ মমতা
উম্মত যাতে কষ্টের মুখে না পড়ে, সেজন্য নামাজের সংখ্যা কমাতে বারবার আল্লাহর দরবারে ফিরে গিয়ে আবেদন করেছিলেন মহানবী (সা.)। ৫০ ওয়াক্ত থেকে ৫ ওয়াক্তে কমিয়ে আনা মূলত উম্মতের প্রতি তার গভীর ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। এই শিক্ষা থেকে আমাদের ভাবতে হবে আমরা নিজেরা আমাদের মুসলিম ভাই-বোনদের কল্যাণে কতটুকু ভূমিকা রাখছি?
৪. আল্লাহর সামনে বিনয় ও লজ্জাবোধ
নামাজ ৫ ওয়াক্তে নেমে আসার পর মুসা (আ.) আবারো কমানোর পরামর্শ দিলেও রাসুলুল্লাহ (সা.) আর আল্লাহর কাছে ফিরে যাননি। তিনি বলেছিলেন, ‘বারবার আবেদন করতে আমি লজ্জাবোধ করছি।’ আল্লাহর সামনে এই বিনয় ও সলিজ্জ মনোভাব মুমিনের চরিত্রের ভূষণ। পাপ কাজ করার আগে বা নামাজ কাজা করার আগে আমাদের হৃদয়ে যদি এই লজ্জাবোধ থাকত, তবে সমাজ আরও সুন্দর হতো।
মেরাজ কেবল একটি ভ্রমণের নাম নয়, এটি উম্মতের জন্য নামাজের মতো শ্রেষ্ঠ উপহার পাওয়ার রাত। মহানবী (সা.) আল্লাহকে জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। তার সেই শিক্ষা ধারণ করে জীবনে বিনয়, আনুগত্য ও পরোপকার ছড়িয়ে দেওয়াই হোক আমাদের লক্ষ্য।