পুরুষের পোশাক পরিধানের বিধান

পোশাক মানুষের ব্যক্তিত্ব ও আভিজাত্যের প্রতীক। নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য মানুষ বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরিধান করে, অনেকের অনুকরণে নিজের পোশাক তৈরি করে থাকেন। বৈধ শালিন যেকোনও পোশাক পুরুষেরা পরতে পারবেন। তবে বস্ত্র পরিধানের ক্ষেত্রে কিছু বৈধ-অবৈধ বিবেচনা রয়েছে।

টাখনুর নিচে কাপড়
পুরুষদের টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। ইসলামে পুরুষের জন্য টাখনু গিরার নিচে কাপড় পরিধান নিন্দনীয় কাজ। এ নির্দেশ শুধু পুরুষের জন্য, নারীর জন্য নয়। কেননা, পুরুষের জন্য শরিয়তসম্মতভাবে কোনো কারণ ছাড়া কোনো অবস্থাতেই টাখনু গিরার নিচে কাপড় পরিধান জায়েজ নয়। 

এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অহংকারবশত টাখনু গিরার নিচে লুঙ্গি, পাজামা, প্যান্ট ঝোলায় আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন তার দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না’ (বুখারি : ৫৮৪৭)। রাসুল আরও বলেন, ‘এক ব্যক্তি অহংকারবশত তার লুঙ্গি হেঁচড়িয়ে হেঁচড়িয়ে যাচ্ছিল। এমতাবস্থায় তাকে মাটিতে ধসিয়ে দেওয়া হলো। ফলে সে কেয়ামত পর্যন্ত জমিনের মধ্যে তলিয়ে যেতে থাকবে।’ (বুখারি : ৩৫২৫)

রেশমের তৈরি পোশাক
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘স্বর্ণ ও রেশমি বস্ত্র আমার উম্মতের নারীদের জন্য বৈধ এবং পুরুষের জন্য হারাম করা হয়েছে।’ (সিলসিলা সহীহা হা/১৮৬৫/৩০৩০)

একবার হুযাইফা রা. এক অগ্নি পুজকের কাছে পানি পান করিতে চাইলেন, অগ্নি পূজক তাকে রূপার গ্লাসে পানি দিলেন। তখন তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)কে বলতে শুনেছি, ‘তোমরা মিহি কিংবা মোটা রেশমী কাপড় পরবে না, সোনা-রূপার পাত্রে পানাহার করবে না। কারণ এসব দুনিয়াতে তাদের (অর্থাৎ কাফিরদের) জন্য এবং আখিরাতে তোমাদের জন্য। (বুখারি, হাদিস, ৫২২৬)