এবার যেসব দেশে সবচেয়ে দীর্ঘ ও স্বল্প সময় রোজা

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমানের জন্য ২০২৬ সালের পবিত্র রমজান মাস নিয়ে আসছে অপেক্ষাকৃত স্বস্তির বার্তা। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, আগামী বছরের রোজার সময়কাল গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হতে পারে বলে জানা গেছে। দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনা অনুসারে, ২০২৬ সালের রমজান মাস শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি। তবে ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে একদিন আগে অর্থাৎ ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকেই রোজা শুরু হতে পারে। বরাবরের মতোই সংযুক্ত আরব আমিরাতের চাঁদ দেখা কমিটি এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা প্রদান করবে।

ভৌগোলিক অবস্থান ও অক্ষাংশের পার্থক্যের কারণে দেশভেদে রোজার সময়কাল ভিন্ন হয়। মূলত সূর্যোদয় (সুবহে সাদিক) ও সূর্যাস্তের সময়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি অঞ্চলের রোজার ব্যাপ্তি নির্ধারিত হয়। ২০২৬ সালে রমজান মাসটি শীতকাল ও বসন্তের শুরুর দিকে হওয়ায় বিশেষ করে উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে দিনের দৈর্ঘ্য কিছুটা কম থাকবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাসিন্দাদের জন্য এবারের রমজান বেশ স্বস্তিদায়ক হবে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রথম রোজায় তাদের প্রায় ১২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট সিয়াম পালন করতে হবে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ মিনিট কম।

দীর্ঘতম ও স্বল্পতম রোজার দেশসমূহ

দীর্ঘতম রোজা: গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের মতো উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত রোজা রাখতে হতে পারে।

স্বল্পতম রোজা: বিষুবরেখার নিকটবর্তী বা দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে দিন ছোট হওয়ায় রোজার সময় কম হয়। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডে রোজার সময় সাধারণত ১১ থেকে ১৩ ঘণ্টার মধ্যে থাকবে।

স্থিতিশীল অঞ্চল: ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও কেনিয়ার মতো বিষুবীয় অঞ্চলে রোজার সময়কাল প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানরা এই প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারণে আগামী রমজানে কিছুটা শারীরিক আরাম ও স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।