ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে অন্যতম হলো জাকাত। পবিত্র কোরআনের অসংখ্য স্থানে নামাজের পাশাপাশি জাকাত প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন মহান আল্লাহ তাআলা। জাকাত কেবল একটি ইবাদত নয়, বরং এটি সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে এবং বিত্তশালীদের সম্পদকে পবিত্র করে। তবে সাধারণ মানুষের মনে একটি প্রশ্ন প্রায়ই জাগে জাকাত কি কেবল রমজান মাসেই আদায় করতে হয়?
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, জাকাত আদায়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট মাস বা তারিখ নির্ধারিত নেই। বরং জাকাত ফরয হওয়ার বিষয়টি ব্যক্তির সম্পদের ওপর নির্ভর করে। কোনো মুসলিমের কাছে যদি শরিয়ত নির্ধারিত ‘নেসাব’ পরিমাণ সম্পদ (৭.৫ তোলা সোনা অথবা ৫২.৫ তোলা রুপা অথবা সমপরিমাণ নগদ অর্থ বা ব্যবসার পণ্য) এক হিজরি বছরকাল স্থায়ী থাকে, তবেই তার ওপর জাকাত ফরয হয়। বছর পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথেই জাকাত আদায় করা উত্তম, বিনা কারণে দেরি করা উচিত নয়।
জাকাত বছরের যেকোনো সময় দেওয়া গেলেও অধিকাংশ মুসলিম রমজান মাসে এটি আদায় করতে পছন্দ করেন। এর প্রধান কারণ হলো, রমজান মাসে যেকোনো নফল ইবাদতে ফরযের সওয়াব এবং একটি ফরয আদায়ে সত্তর গুণ সওয়াব পাওয়া যায়। তাই অধিক সওয়াবের আশায় এই মাসে জাকাত দেওয়া সর্বোত্তম। এছাড়া কেউ চাইলে বছরের শুরুতে অগ্রিম জাকাতও দিতে পারেন, তবে বছর শেষে মূল হিসাবের সাথে তা সমন্বয় করে নিতে হবে।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিমের কাছে ৮৭.৪৫ গ্রাম সোনা অথবা ৬১২.৩৫ গ্রাম রৌপ্য অথবা এর সমমূল্যের নগদ টাকা থাকলে তিনি সম্পদশালী হিসেবে গণ্য হন। এই সঞ্চিত বা বর্ধনশীল সম্পদের ২.৫ শতাংশ বা ৪০ ভাগের ১ ভাগ জাকাত হিসেবে প্রদান করতে হয়।
সুরা তাওবার ৬০ নম্বর আয়াত অনুযায়ী আটটি খাতে জাকাত বণ্টন করা যায়। তারা হলেন ফকির, মিসকিন, জাকাত আদায়কারী কর্মচারী, নও-মুসলিম (যাদের ঈমান মজবুত করা প্রয়োজন), দাস মুক্তি, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথে জিহাদকারী এবং বিপদগ্রস্ত মুসাফির।
জাকাত কেবল দান নয়, বরং এটি গরিবের প্রাপ্য অধিকার। সঠিক সময়ে সঠিক নিয়মে জাকাত আদায়ের মাধ্যমে একজন মুমিন তার পরকালীন সওয়াব হাসিলের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাও পূরণ করতে পারেন।