শবে কদরে ফেরেশতারা যেভাবে পৃথিবীতে নেমে আসেন

ইসলামি আকিদায় শবে কদর বা লাইলাতুল কদর এক অনন্য মহিমান্বিত রজনী। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, এই রাতে আকাশ থেকে পৃথিবীতে এক বিশেষ নূরানি প্রবাহ তৈরি হয়। ফেরেশতাকুলের সর্দার হযরত জিবরাইল (আ.) এর নেতৃত্বে অসংখ্য ফেরেশতা এই রাতে পৃথিবীতে নেমে আসেন। তাদের এই অবতরণের প্রক্রিয়া ও তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর।

অবিরাম অবতরণ প্রক্রিয়া

সুরা আল-কদরে ফেরেশতাদের অবতরণ বোঝাতে ‘তানাজ্জালু’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। আরবি ব্যাকরণ অনুযায়ী, এর অর্থ হলো কোনো কাজ বারবার বা দফায় দফায় হওয়া। অর্থাৎ, এই রাতে ফেরেশতারা আসমান থেকে একবারে নয়, বরং দলে দলে অবিরাম ধারায় পৃথিবীতে নামতে থাকেন। সূর্যাস্ত থেকে শুরু করে ফজর পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে।

জিবরাইল (আ.)-এর নেতৃত্ব

কোরআনের বর্ণনায় এই রাতে ‘রুহ’ বা হযরত জিবরাইল (আ.)-এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর উচ্চ মর্যাদার কারণে সমস্ত ফেরেশতার ভিড়ে তাঁর কথা আলাদাভাবে বলা হয়েছে। তিনি ফেরেশতাদের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে আল্লাহর নির্দেশে এই ধরণীতে পা রাখেন।

বালুকণার চেয়েও বেশি ফেরেশতা

এই রাতে কতসংখ্যক ফেরেশতা পৃথিবীতে আসেন, তা নিয়ে হাদিসে বিস্ময়কর বর্ণনা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘লাইলাতুল কদরের রাতে পৃথিবীতে ফেরেশতারা এত বেশি অবতরণ করেন যে, তাঁদের সংখ্যা পাথরকুচি বা বালুকণার চেয়েও বেশি’ (মুসনাদে আহমদ)। এর অর্থ হলো এই রাতে পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে, প্রতিটি মসজিদে ও মুমিন বান্দার ঘরে আল্লাহর রহমত নিয়ে ফেরেশতাদের বিচরণ ঘটে।

পৃথিবীতে আসার উদ্দেশ্য

ফেরেশতারা মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে পরবর্তী এক বছরের ভাগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো (আমরে হাকিম) নিয়ে আসেন। আগামী এক বছর কার রিজিক কী হবে বা কার মৃত্যু হবে এমন বিষয়গুলো ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া তারা ইবাদতকারীদের জন্য শান্তির বার্তা ও রহমত নিয়ে আসেন।

মুমিনদের জন্য সালাম ও শান্তি

ইমাম ইবনে কাসির (র.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, ফেরেশতারা যখন ইবাদতকারীদের পাশ দিয়ে যান, তখন তাদের সালাম জানান। যাবতীয় অনিষ্ট ও বিপদাপদ থেকে এই রাতটি ফজর পর্যন্ত শান্তিময় থাকে। ফেরেশতারা মুমিনদের ইবাদত প্রত্যক্ষ করেন এবং তাঁদের জন্য আল্লাহর দরবারে রহমতের দোয়া করতে থাকেন। এই বরকতময় রজনীতে ইবাদত ও মুনাজাতের মাধ্যমে সেই মহিমান্বিত ফয়েজ হাসিল করাই মুমিনদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।