শবে কদরের নামাজের সঠিক নিয়ম

ইসলাম ধর্মে ‘লাইলাতুল কদর’ বা ‘শবে কদর’ অত্যন্ত মহিমান্বিত ও বরকতময় একটি রাত। ফারসি শব্দ ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘কদর’ অর্থ সম্মান বা মর্যাদা। পবিত্র কোরআনে এই রাতকে হাজার বছরের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই রজনীতে ইবাদত করলে হাজার মাস ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াব হাসিল করা সম্ভব।

পবিত্র কোরআন ও হাদিস অনুযায়ী, শবে কদরের নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। তবে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাতে) কদর তালাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

শবে কদরের নামাজ পড়ার নিয়ম
লাইলাতুল কদরের রাতে বিশেষ কোনো ধরাবাঁধা নামাজের নিয়ম বা নির্দিষ্ট সুরা পড়ার পদ্ধতি নেই। এ রাতে সাধারণ নফল নামাজের মতোই দুই রাকাত করে নামাজ আদায় করতে হয়। দুই রাকাত করে নফল নামাজ যত খুশি পড়া যায়। প্রতিটি রাকাতে সুরা ফাতেহার পর অন্য যেকোনো সুরা মিলিয়ে পড়া যাবে। নামাজ শেষে নিজের কৃত গুনাহর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।

এই রাতে আর কী কী ইবাদত করবেন?
কেবল নামাজই নয়, শবে কদরের গুরুত্ব বুঝে আরও কিছু ইবাদতে মগ্ন হওয়া উচিত। বেশি বেশি পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা। জিকির ও তাসবিহ পাঠ করা। মা-বাবা ও মৃত আত্মীয়-স্বজনের জন্য কবর জিয়ারত ও দোয়া করা।
অধিক পরিমাণে ইস্তেগফার ও তওবা করা।

শবে কদরের বিশেষ দোয়া
হাদিস শরিফে এই রাতের জন্য একটি বিশেষ দোয়ার কথা উল্লেখ আছে। উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, শবে কদর পেলে তিনি কোন দোয়া পড়বেন। তখন রাসূল (সা.) তাকে এই দোয়াটি পড়তে বলেন:
দোয়া: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।’
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি মহানুভব ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫১৩)

মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য একাগ্রচিত্তে কান্নাকাটি করা এবং তওবা করাই এই রাতের প্রধান সার্থকতা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে শবে কদরের বরকত নসিব করুন।