রমজান শেষ হওয়ার আগে যে ৩টি কাজ করা জরুরি

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমজান আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছে। ইবাদত-বন্দেগির এই মাসটি শেষ করার সর্বোত্তম উপায় হলো মহান আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, ইস্তিগফারের মাধ্যমে যেকোনো নেক আমল শেষ করা হলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

রমজানের এই শেষ দিনগুলোতে মুমিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ কিছু করণীয় তুলে ধরা হলো-

বেশি বেশি ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা

মানুষ হিসেবে আমাদের ইবাদতে নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে। রোজা রেখে হয়তো আমরা মনের অজান্তেই রাগ করেছি বা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কাজে লিপ্ত হয়েছি। এসব ভুল সংশোধনের জন্য রমজানের শেষ মুহূর্তে আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি ইস্তিগফার করা প্রয়োজন। নামাজের শেষে যেমন আমরা ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ি, রমজানকেও তেমনি তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে পূর্ণতা দেওয়া উচিত।

দ্রুত সদকাতুল ফিতর আদায়

রোজার ভুলত্রুটি দূর করতে ‘সদকাতুল ফিতর’ বা ফিতরা আদায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। নামাজে ভুল হলে যেমন ‘সাহু সেজদা’ দিয়ে ক্ষতিপূরণ করা হয়, তেমনি রোজার ত্রুটি কাটাতে ফিতরা কাজ করে। এটি রোজাদারকে অনর্থক কথা বা গুনাহ থেকে পবিত্র করে এবং দরিদ্রদের আনন্দের সুযোগ করে দেয়। তাই ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা নিশ্চিত করা জরুরি।

সময়ের সঠিক মূল্যায়ন ও আত্মোপলব্ধি

চোখের পলকেই রমজানের দিনগুলো পেরিয়ে গেল। সময়ের এই দ্রুতগতি আমাদের জীবনের নশ্বরতাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। রমজান শেষ হচ্ছে, কিন্তু আমাদের জীবন কখন শেষ হবে তা আমরা জানি না। তাই এই শেষ সময়ে সময়ের অপচয় না করে আল্লাহর সঙ্গে মজবুত সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করা উচিত।

সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন, শুধু ইবাদত করাই বড় কথা নয়, বরং সেই ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়াটাই আসল লক্ষ্য। তাই কায়মনোবাক্যে দোয়া করা উচিত ‘হে আল্লাহ, আমাদের রোজা ও যাবতীয় নেক আমল কবুল করো।’