নামাজ অন্যতম ফরজ ইবাদত। হাদিসেও একাধিকবার নামাজ আদায়ের কথা এসেছে। সেই সঙ্গে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ওয়াক্তমতো নামাজ আদায়ের ওপরও। এমনকি খোদ মহান আল্লাহর কাছেও যথাসময়ে সালাত আদায় করা অধিক প্রিয় আমল।
পবিত্র কোরআনে ৮২ বার নামাজের কথা এসেছে। মহান আল্লাহ তায়ালা কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)
এক্ষেত্রে একাকী নামাজ পড়ার চেয়ে জামাতে নামাজ আদায় করার গুরুত্ব অনেক বেশি। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, একাকী নামাজ আদায় করার চেয়ে জামাতে নামাজ আদায়ে ২৭ গুণ বেশি সওয়াব। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪৫)
অন্যদিকে ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় করা খোদ মহান রবের কাছেও প্রিয় একটি আমল। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, 'আমি রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? জবাবে নবীজি (সা.) বললেন, যথাসময়ে সালাত আদায় করা।'
ইবনু মাসঊদ (রা.) আবারও জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, এরপর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। তারপর ইবনু মাসঊদ (রা.) আবারও জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? রাসুল (সা.) বললেন, এরপর আল্লাহর পথে জিহাদ বা জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ্। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০২)
এক্ষেত্রে ৫ ওয়াক্ত নামাজের তৃতীয় ওয়াক্ত হলো আসর। এই সময়ে ৪ রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করতে হয়। তবে আসরের সময় ফরজ নামাজের আগে ৪ রাকাত সুন্নতও আদায় করা যায়। খোদ রাসুল (সা.) আসরের ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নত আদায় করতেন।
তবে প্রশ্ন হলো- আসরের ফরজ আদায়ের আগের ৪ রাকাত সুন্নত কি বাধ্যতামূলক? কেউ যদি এই ৪ রাকাত নামাজ ছেড়ে দেয় তাহলে কি গুনাহ হবে? কারণ, কিছু সুন্নত আছে যেগুলো সুন্নতে মুয়াক্কাদা বা যেগুলোয় বিশ্বনবী (সা.) তাগিদ দিয়েছেন। যেমন: জোহরের ফরজ নামাজের আগের ৪ রাকাত সুন্নত হলো সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এগুলো ছেড়ে দেয়া উচিত নয় বলে অধিকাংশ আলেমদের মত। তবে যদি কেউ সুন্নতে মুয়াক্কাদা ছেড়ে দেয় তবে গুনাহগার হবে না।
অন্যদিকে আসরের ৪ রাকাত ফরজ নামাজের আগের সুন্নত সুন্নতে মুয়াক্কাদা নয়। রাসুল (সা.) সময় পেলে আসরের আগে সুন্নত আদায় করতেন। নিয়মিত তিনি এমনটা করেননি।
আলী (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) আসরের আগে ৪ রাকাত (সুন্নত) আদায় করতেন। মাঝে (তাশাহহুদ পাঠকালে) আল্লাহর মুকাররাব ফেরেশতা ও তাদের অনুসারী মুসলিম ও মুমিনদের ওপর সালাম পেশ করতেন। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৪২৯)
অধিকাংশ আলেমদের মত, কেউ সময় পেলে আসরের ফরজ নামাজ আদায়ের আগে এই ৪ রাকাত সুন্নত পড়তে পারেন। তবে এই সুন্নত আদায় না করতে পারলেও কোনো অসুবিধা নেই।