মহাকাশে ‘স্পেসওয়াক’ করবেন নাসার নভোচারীরা

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে খোলা মহাকাশে অভিযানে নামছেন নাসার দুই নভোচারী। মার্চ মাসে দুই দফায় ‘স্পেসওয়াক’ বা মহাকাশে হেঁটে বেড়ানোর এই রোমাঞ্চকর কাজ করবেন তারা। মূলত স্টেশনের পুরনো বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে নতুন প্রজন্মের সৌর প্যানেলের আওতায় আনাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

নাসা জানিয়েছে, প্রথম স্পেসওয়াকটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৮ মার্চ। এই অভিযানে অংশ নেবেন অভিজ্ঞ নভোচারী জেসিকা মেয়ার এবং প্রথমবারের মতো মহাকাশে পা রাখা ক্রিস্টোফার উইলিয়ামস। তারা স্টেশনের ‘কোয়েস্ট এয়ারলক’ (বিশেষ বহির্গমন পথ) ব্যবহার করে মহাশূন্যে বেরিয়ে আসবেন।

কী কাজ করবেন নভোচারীরা?

নভোচারীদের প্রধান কাজ হবে স্টেশনের ‘২এ পাওয়ার চ্যানেল’ প্রস্তুত করা। সেখানে তারা ‘আইআরওএসএ’ (iROSA - ISS Roll Out Solar Array) নামক অত্যাধুনিক সৌর প্যানেল বসানোর প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করবেন। এই বিশেষ প্যানেলটি বসানো হলে মহাকাশ স্টেশনের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা দীর্ঘ এই অভিযানে নভোচারীরা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও বৈদ্যুতিক তার স্থাপন করবেন। এরপর ‘ইউএস স্পেসওয়াক–৯৫’ নামক দ্বিতীয় অভিযানের মাধ্যমে ‘৩বি পাওয়ার চ্যানেল’ প্রস্তুত করা হবে।

জেসিকা মেয়ারের জন্য এটি হবে চতুর্থ স্পেসওয়াক, তবে ক্রিস্টোফার উইলিয়ামসের জন্য এটিই প্রথম অভিজ্ঞতা। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন তৈরির পর থেকে এখন পর্যন্ত শত শত বার স্পেসওয়াক হয়েছে। আসন্ন এই অভিযান দুটি হবে স্টেশনের ইতিহাসের ২৭৮তম এবং ২৭৯তম স্পেসওয়াক।

নাসা জানায়, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আধুনিক করার ফলে ভবিষ্যতে মহাকাশ স্টেশনে বৈজ্ঞানিক গবেষণার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে এবং বড় ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনো বিদ্যুৎ বিভ্রাট হবে না।