দীর্ঘ ৫৩ বছর পর আবারও মানুষকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠাতে যাচ্ছে নাসা। সর্বশেষ ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭ অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে নভোচারী পাঠানো হয়েছিল। সেই অধ্যায়ের পর এবারই নতুন করে মানবসহ চন্দ্রাভিযানের সূচনা হতে যাচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আর্টেমিস টু অভিযানের আওতায় বুধবার (১ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে চার নভোচারী মহাকাশযাত্রা শুরু করবেন। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ভোর ৪টা ২৪ মিনিটে উৎক্ষেপণের নির্ধারিত সময় ধরা হয়েছে।
এই ঐতিহাসিক মিশনে অংশ নিচ্ছেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। তিন পুরুষ ও এক নারী নভোচারীর এই দল মহাকাশ অভিযানে বৈচিত্র্যের নতুন দিগন্ত তৈরি করছে।
প্রায় ১০ দিনের এই অভিযানে মহাকাশযানটি চাঁদের কক্ষপথ ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবে। এবার চাঁদে অবতরণ করা হবে না; বরং ১৯৬৮ সালের অ্যাপোলো ৮ অভিযানের মতো কক্ষপথ প্রদক্ষিণই মূল লক্ষ্য।
এই মিশনে ব্যবহৃত হচ্ছে নাসার শক্তিশালী রকেট স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস), যা ভবিষ্যতের একাধিক চন্দ্রাভিযানের জন্য তৈরি। এই প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য শুধু চাঁদে যাওয়া নয় বরং সেখানে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানের পথ তৈরি করা।
নভোচারী ক্রিস্টিনা কচ জানিয়েছেন, চাঁদে অভিযানের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এমনকি সেখানে অতীতে প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণও অনুসন্ধান করা হতে পারে।
এই মিশনের আরেকটি বিশেষ দিক হলো প্রথমবারের মতো কোনো চন্দ্রাভিযানে একজন নারী, একজন কৃষ্ণাঙ্গ এবং একজন অ-মার্কিন নভোচারী একসঙ্গে অংশ নিচ্ছেন, যা মহাকাশ ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রযুক্তিগত নানা জটিলতায় সময়সূচি পিছিয়েছে একাধিকবার। তবে সম্প্রতি নাসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং আবহাওয়াও অনুকূলে রয়েছে। প্রয়োজনে ৬ এপ্রিলের মধ্যে বিকল্প সময়েও উৎক্ষেপণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এদিকে, এই ব্যয়বহুল প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নিতে চাপ দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার লক্ষ্য, বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আবারও চাঁদের মাটিতে মার্কিন নভোচারীদের পদচিহ্ন দেখা। সূত্র: এএফপি