কঙ্গোর অরণ্যে কমলা ঠোঁটের নতুন বানর প্রজাতির সন্ধান 

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) ঘন বর্ষাবনে কমলা রঙের ঠোঁট ও গর্জনধ্বনির জন্য পরিচিত এক নতুন বানর প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। স্থানীয়ভাবে ‘লিকওয়েলি’ নামে পরিচিত এই প্রাণীটির বৈজ্ঞানিক নাম কোলোবাস কঙ্গোয়েনসিস (Colobus congoensis)।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিজ্ঞান সাময়িকী পিএলওএস ওয়ান-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গবেষকদের মতে, গত ৭৫ বছরে আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া এটি মাত্র পঞ্চম নতুন বানর প্রজাতি। নতুন প্রজাতিটির গায়ে চকচকে কালো লোম, লম্বা লেজ, মুখজুড়ে কমলা-ক্রিম রঙের দাগ এবং উজ্জ্বল কমলা ঠোঁট রয়েছে। এছাড়া এর মাথার খুলি, দাঁত ও কঙ্কালের গঠন আফ্রিকার অন্যান্য কোলোবাস বানর থেকে আলাদা।

প্রায় ৬ দশমিক ৮ কেজি ওজনের এই বানরটি একই গোত্রের অন্যান্য প্রজাতির তুলনায় আকারেও ছোট। এর গভীর গর্জনধ্বনিও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা।

গবেষণা দলের প্রধান কেট ডেটওয়াইলার বলেন, এই আবিষ্কার আফ্রিকান বানরের বিবর্তন সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে। জিনগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এর নিকটতম আত্মীয় কোলোবাস সাটানাস প্রজাতির সঙ্গে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ বছর আগে এর বিবর্তনগত বিচ্ছেদ ঘটে।

নতুন প্রজাতিটি শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০০৮ সালে, যখন গবেষকেরা প্রথম অস্বাভাবিক একটি বানরের ছবি তোলেন। পরে ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে অন্তত ১১৪ বার প্রাণীটিকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। শারীরিক গঠন, জিনগত বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় জনগণের তথ্য মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি আগে অজানা একটি প্রজাতি।

তবে প্রজাতিটির সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকেরা। প্রায় ১ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সীমিত বিস্তৃতি, বন উজাড় এবং শিকারের চাপের কারণে এটিকে বিপন্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, লোমামি জাতীয় উদ্যানের আবাসস্থল সংরক্ষণ করা না গেলে এই বিরল বানর প্রজাতির টিকে থাকা হুমকির মুখে পড়তে পারে। সূত্র: সিএনএন