পানির পাম্প, টেম্পুর চাকা দিয়ে নিজের তৈরি আরসি বিমানে আকাশে উড্ডয়ন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মানিকগঞ্জের ষাইটঘর তেওতা এলাকার তরুণ উদ্ভাবক জুলহাস মোল্লা। টানা চার বছরের চেষ্টায় এই বিমান তৈরি করেন জুলহাস মোল্লা।
তার বিমান উড্ডয়ন দেখতে যমুনার তীরে ভিড় করেছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত লোকজন।
মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লার উপস্থিতিতে বিমানটি সফলভাবে উড্ডয়ন করেন জুলহাস।
জেলার দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া এলাকায় বাড়ি হলেও নদীভাঙনের কারণে বর্তমানে শিবালয় উপজেলার ষাইটগর তেওতায় পরিবারসহ বসবাস করছেন জুলহাস।
জুলহাস জানান, এর আগে কয়েকটি তৈরি করলেও সফলতা পাননি। অতঃপর এই বিমানটি তৈরি করে দেশের মধ্যে তিনিই প্রথম সফলভাবে উড়িয়েছেন। বিমানটি তৈরি করতে দেশীয় প্রযুক্তি পানির পাম্প, টেম্পুর চাকাসহ অন্যান্য দেশীয় যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছে।
জুলহাসের বাবা জলিল মোল্লা জানান, 'জুলহাস ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন প্লাস্টিকের জিনিস কাটাকাটি করে কিছু একটা বানাতে চাইতো। জিজ্ঞেস করলে বলতো, একদিন দেখবে কী বানিয়েছি।'
তিনি বলেন, ‘গত চার বছর ধরে সে বিমান বানিয়ে উড্ডয়নের চেষ্টা করে আসছিল। কিন্তু সফল হতে পারছিল না। তবে এবার সফল হয়েছে। গতকাল (সোমবার, ৩ মার্চ) যমুনার চরে তার বিমানটি প্রায় ৫০ ফুট ওপরে উঠতে সক্ষম হয়। আজ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টার দিকে সে আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানটি উড়ায়। সেসময় জেলা প্রশাসক ড. মানেয়ার হোসেন মোল্লাসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।’
জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা জানান, জুলহাসের গবেষণা কাজে সরকার সহযোগিতা করবে। প্রাথমিকভাবে কিছু আর্থিক সহযোগিতা করে তাকে উৎসাহ দেয়া হয়েছে।
ছয় ভাই ও দুই বোনের মধ্যে জুলহাস পঞ্চম। ২০১৪ সালে জিয়নপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। তবে অর্থাভাবে পড়ালেখা আর চালিয়ে যেতে পারেননি। বর্তমানে ঢাকায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ করছেন ২৮ বছরের এই তরুণ।