নতুন সরকারের কাছে ক্রীড়াঙ্গনের যে যে প্রত্যাশা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে ক্রীড়াঙ্গনে আমূল সংস্কারের দাবি তুলেছেন সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকরা।

তাদের মূল দাবি- ক্রীড়া প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা, তৃণমূলভিত্তিক উন্নয়ন এবং আধুনিক অবকাঠামো নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল ভোট দেওয়ার পর নিজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ২৬ বছর পরও দেশের ক্রিকেটে যে ধারাবাহিক উন্নয়ন দরকার ছিল, তা অর্জিত হয়নি। 

তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও উন্নত অবকাঠামো প্রয়োজন। খেলাকে শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে জেলা-জেলায় ছড়িয়ে দিতে হবে এবং বন্ধ থাকা ভেন্যুগুলো দ্রুত সচল করতে হবে।”

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান ফেডারেশনগুলোতে পেশাদার পরিবেশ ও যোগ্য নেতৃত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি ঝুলে থাকা জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেন। 

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ফাহাদ করিম স্পষ্ট দাবি জানিয়েছেন ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখতে হবে। তিনি স্কুল পর্যায় থেকে নিয়মিত প্রতিযোগিতা এবং পর্যাপ্ত খেলার মাঠ তৈরির আহ্বান জানান।

বিভিন্ন ইনডোর ও আউটডোর ফেডারেশনের কর্মকর্তারাও একই সুরে কথা বলছেন। ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল কবির আন্তর্জাতিক আসরের জন্য বিশেষ ফান্ডের দাবি জানান। 

হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) রিয়াজুল হাসান খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ পাঁচ বছরের সুস্পষ্ট পরিকল্পনার কথা বলেন।

বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এমএ কুদ্দুস খান এবং ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিমল ঘোষ আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন সরকারের ক্রীড়াবান্ধব নেতৃত্ব সঠিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেবে।

যোগ্য ব্যক্তিদের নেতৃত্বে এনে গ্রাম-গঞ্জ পর্যন্ত খেলাধুলা পৌঁছে দেওয়া গেলেই দেশের ক্রীড়াঙ্গন আবার প্রাণ ফিরে পাবে বলে তারা মনে করেন।