টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিলো দক্ষিণ আফ্রিকা

আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুই সুপার ওভারের ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জেতার পর দক্ষিণ আফ্রিকা দাপুটে জয় পেয়েছে।

শনিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তারা নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে। এইডেন মার্করাম বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ১৭ বল হাতে রেখে জিতে গেছে।

আহমেদাবাদে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০০ রানের আভাস দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু মার্কো জানসেনের পাওয়ার প্লেতে চমৎকার বোলিংয়ে ১৭৫ রানে থামে তারা। তারপর প্রোটিয়ারা মার্করামের ৪৪ বলে ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংসে চড়ে ১৭.১ ওভারে ৩ উইকেটে ১৭৮ রান করে।

পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে আফ্রিকানরা ৮৩ রান তোলে। মার্করামের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে কুইন্টন ডি কক ৪.৪ ওভারে ৬২ রান করে।  ডি কক ২০ রানে থামেন। সমান ২১ রানে রায়ান রিকেলটন ও ডেভাল্ড ব্রেভিসের উইকেট নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ডেভিড মিলার ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। ১৯ বলে ফিফটি করা মার্করামের ইনিংসে ছিল ৮ চার ও ৪ ছয়।

এর আগে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের পাওয়ার প্লের শুরুতে চাপে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ইনিংসের প্রথম বলে চার মারেন টিম সেইফার্ট। ওপেনিং জুটি ভাঙার আগে ফিন অ্যালেনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৩.১ ওভারে ৩৩ রান তুলে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দেয় নিউজিল্যান্ড।

পরের বলে জানসেন ১৩ রানে ফেরান সেইফার্টকে। একই ওভারে অ্যালেন টানা ৬, ৪ মেরে ১৭ রান তোলেন। ষষ্ঠ ওভারে এই পেসারের জোড়া আঘাতের শিকার কিউইরা।

পাওয়ার প্লেতে নিজের দুই ওভারে তিন উইকেট নিয়ে তাদেরকে ব্যাকফুটে ফেলেন জানসেন। ১৭ বলে চারটি চার ও দুটি ছয়ে ৩১ রান করে অ্যালেনের বিদায়ে বড় ধাক্কা খায় ব্ল্যাক ক্যাপরা।

এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সতর্ক ব্যাটিং করতে বাধ্য হয় নিউজিল্যান্ড। ১০ ওভারে চার উইকেটে ৯২ রান তোলার পর টানা তিন ওভারে একটু মেরে খেলার চেষ্টা করে তারা। এই সময়ে মার্ক চাপম্যান ও ড্যারিল মিচেল ৩৯ রান তোলেন।

১৪তম ওভারের শেষ বলে চাপম্যান দুই রানের আক্ষেপ নিয়ে ফিরলে আবার ছন্দ হারায় নিউজিল্যান্ড। ২৬ বলে ৬ চার ও ২ ছয়ে ৪৮ রানে জানসেনের চতুর্থ শিকার হন তিনি। দুইশ রানের সম্ভাবনা জাগানো ব্যাটিং হঠাৎ করে ঝিমিয়ে পড়ে। ১৩তম ওভার থেকে পরের ২১ বলে ১৪ রান দিয়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উইকেট নিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

শেষ দুই ওভারে ২০ রান তোলার আগ পর্যন্ত মন্থর ব্যাটিং করেছে নিউজিল্যান্ড। জেমস নিশাম ইনিংসের শেষ দুই বলে টানা দুটি চার মেরে দলীয় স্কোর ১৭৫ রানে নেন। তিনি ১৫ বলে ৩ চারে ২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।

৪ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা জানসেন। এনিয়ে বিশ্বকাপে একই প্রতিপক্ষের কাছে সর্বোচ্চ হারের তালিকায় বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে দুই নম্বরে নিউজিল্যান্ড। প্রোটিয়াদের কাছে পঞ্চম হার দেখল তারা।

টানা তিন জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ডি গ্রুপের শীর্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই আসরে প্রথম হার দেখলেও নিউজিল্যান্ড ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে।