বাংলাদেশ ফুটবল লীগ 

গোলরক্ষকের অদ্ভুত ভুলে ম্যাচ পাতানোর সন্দেহ

বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) গোলরক্ষকের অদ্ভুত এক ভুল ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে পাতানো ম্যাচ ও জুয়া খেলার সন্দেহে তোলপাড় শুরু হয়েছে ফুটবলপাড়ায়।

ফর্টিস এফসি ও নতুন দল চট্টগ্রাম সিটি এফসির মধ্যে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) খেলা চলাকালীন ঘটনাটি ঘটে। ভিডিওতে দেখা যায়, ফর্টিসের জাপানি ফরোয়ার্ড নোরিকি আকাদা গোলপোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন। গোলটি চমৎকার হলেও আসল আলোচনা শুরু হয় চট্টগ্রাম সিটির গোলরক্ষক শান্ত কুমার রায়কে নিয়ে। তিনি যেভাবে বল রুখে দেওয়ার বদলে একদম শেষ মুহূর্তে নিজের দুই হাত গুটিয়ে নিলেন, তাতেই খটকা লেগেছে সবার। 

ফুটবল মাঠে গোলরক্ষকের হাস্যকর ভুল কিংবা অদ্ভুত গোলের ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের ফুটবলে ম্যাচ পাতানো, জুয়া আর স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ বারবার উঠেছে। স্বাভাবিকভাবেই এই কাণ্ড দেখে সমর্থক ও নেটিজেনদের মনে অনৈতিক লেনদেনের সন্দেহ দানা বেঁধেছে। অবশ্য ওই শটটি যখন হয়, তার আগেই বক্সে ফাউল হওয়ার কারণে রেফারি বাঁশি বাজিয়েছিলেন। তাই গোলটি আর শেষ পর্যন্ত টিকেনি। কিন্তু তাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোড়ন একটুও কমেনি।

সেরা লিগে চট্টগ্রাম সিটির এটিই ছিল প্রথম ম্যাচ। প্রথমার্ধে তারা ফর্টিসকে বেশ শক্তভাবেই সামলে রেখেছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে একদম খেই হারিয়ে ফেলে তারা। পর পর ৬টি গোল হজম করে অভিষেক ম্যাচেই পেতে হয় বড় হারের তেতো স্বাদ।

ভাইরাল ক্লিপ ও মানুষের ক্ষোভের বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি এফসির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও দলনেতা নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্পট ফিক্সিংয়ের সব অভিযোগ উড়িয়ে দেন। তরুণ গোলরক্ষকের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ভিডিওটা ফেসবুকে ভাইরাল। ভেতরের সত্যিটা না জেনে মানুষ আমাদের ক্লাবের নাম খারাপ করছে। প্রথমত, রেফারি ফাউলের জন্য আগেই বাঁশি বাজিয়েছিলেন, ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।’ 

‘দ্বিতীয়ত, প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির জন্য আমরা সময় পেয়েছিলাম মাত্র এক দিন। ক্লান্তি চেপে বসায় দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের খেলোয়াড়েরা আর টেনে তুলতে পারেনি। তাছাড়া পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় বেঞ্চের শক্তিতে ঘাটতি ছিল, বিকল্প খেলোয়াড় নামিয়ে কৌশল বদলানোর সুযোগও আমাদের হাতে ছিল না।’

গোলরক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ নিয়ে সরাসরি জানতে চাইলে নাজিম বলেন, ‘কোনো প্রমাণ ছাড়া একজন জুনিয়র খেলোয়াড়কে নিশানা করা আর তার মনোবল ভেঙে দেওয়া মোটেও ঠিক নয়। আমরা কোনো ধরনের ফিক্সিং বা জুয়ার সঙ্গে জড়িত নই। এই ছেলেটা নিজেই ম্যাচটা খেলতে চায়নি, কিন্তু আমাদের হাতে বিকল্প কোনো উপায় ছিল না।’

এদিকে গত কয়েক মৌসুমে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) তথ্যের ভিত্তিতে বেশ কিছু ম্যাচ পাতানো ও জুয়ার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের 'ফিক্সড-ম্যাচ আইডেন্টিফিকেশন কমিটি'। তবে সেই তদন্তের ফলাফল বা কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বাফুফে এখনও প্রকাশ করেনি।