বিশ্বকাপ জয়ী ওয়ানডে ক্রিকেটের অধিনায়করা!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিদায়ের সুর বেজেছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ব্যাটে বলে দারুণ জমজমাট  লড়াই দেখেছে ক্রিকেট ভক্তরা। আজ রোববার দুপুরে স্বাগতিক ভারত ও অস্ট্রেলিয়া শিরোপা লড়াইয়ে মাঠে নামবে। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ১ লাখ ৩০ হাজার দর্শকের সামনে ভারত তৃতীয় এবং অস্ট্রেলিয়া লড়াই করবে ষষ্ঠ শিরোপার জন্য।

ফাইনালের দিন থাকছে বিশেষ কিছু আয়োজন। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশটি থাকছে প্রথম ইনিংসের শেষে। ১৯৭৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ফাইনালের দিন। তাদের বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

এই পর্যন্ত ওয়ানডে বিশ্বকাপের ১২টি আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ড একবার করে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারত দুইবার ও অস্ট্রেলিয়া পাঁচবার বিশ্বসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এই ৬ দলের মোট ১০ জন অধিনায়ক এই পর্যন্ত বিশ্বকাপ শিরোপা হাতে তুলেছেন।

ওয়ানডে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্লাইভ লয়েড। বিশ্বকাপের প্রথম আসরে ১৯৭৫ সালে তিনি উইন্ডিজের হয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জেতেন। এরপর ১৯৭৯ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসরেও তিনি শিরোপা হাতে তোলার সুযোগ পান। লয়েড প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের পাশাপাশি পরপর দুটি বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করা প্রথম অধিনায়ক।

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের তৃতীয় আসরে ১৯৮৩ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। সেই দলের নেতৃত্বে ছিলেন কপিল দেব। উপমহাদেশের প্রথম ক্রিকেট অধিনায়ক হিসেবে তিনি দলকে বিশ্বসেরা করার গৌরব অর্জন করেছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৯৭৮ সালের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে অভিষেক হয় কপিলের। ক্যারিয়ারের চতুর্থ বছরেই তিনি ওয়ানডে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ মর্যাদার শিরোপা হাতে নিয়েছিলেন।

অস্ট্রেলিয়া প্রথমবার বিশ্বসেরা হয় ১৯৮৭ সালে, বিশ্বকাপের চতুর্থ আসরে। বিশ্বকাপের সেই আসরে অজিদের নেতৃত্বে ছিলেন অ্যালান বোর্ডার। ১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর তাকে বিশ্বকাপের ছোঁয়া পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় ৮ বছর।

উপমহাদেশের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপের পঞ্চম আসরে শিরোপা জয় করে পাকিস্তান। বিশ্বকাপজয়ী পাকিস্তান দলের অধিনায়ক ছিলেন ইমরান খান। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ১৭৫ ম্যাচ খেলা এই বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের মোট রান ৩৭০৫। বল হাতে তিনি ১৮২টি উইকেটও শিকার করেছেন।

ওয়ানডে বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসরে শিরোপা জয় করে অর্জুনা রানাতুঙ্গার নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কা। ১৯৯৬ সালে তিনি বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করার গৌরব অর্জন করেন। তার পরে আর কোনো লঙ্কান অধিনায়ক দলকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারেননি।

অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডের বিশ্বসেরা হয় ১৯৯৯ সালে, বিশ্বকাপের সপ্তম আসরে। সেবার অজিদের অধিনায়ক ছিলেন স্টিভ ওয়াহ।

২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে তৃতীয়বার ও টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয় করে অস্ট্রেলিয়া। তখন অজিদের নেতৃত্বে ছিলেন রিকি পন্টিং। ১৯৯৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়ানডে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু করার পর তিনি ৮ বছরেই বিশ্বসেরা অধিনায়ক হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। বিশ্বকাপের অষ্টম আসরে একবার শিরোপা হাতে তোলার পর নবম আসরেও তার নেতৃত্বে বিশ্বসেরা হয় অজিরা।

১৯৮৩ সালের পর ভারত দ্বিতীয়বার বিশ্বসেরার মুকুট পরে ২০১১ সালে বিশ্বকাপের দশম আসরে। সেবার ভারত দলের অধিনায়ক ছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। উপমহাদেশের প্রথম দেশ হিসেবে তার নেতৃত্বেই দুবারের বিশ্বসেরা দল হয়েছিল ভারত।

ওয়ানডে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৫টি শিরোপা জয় করা দল অস্ট্রেলিয়া। দলটি নিজেদের পঞ্চম শিরোপা জয় করে ২০১৫ সালে বিশ্বকাপের একাদশ আসরে। সেবার অজিদের নেতৃত্বে ছিলেন মাইকেল ক্লার্ক।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বর্তমান বিশ্বসেরা দল ইংল্যান্ড প্রথমবার শিরোপা জয় করে বিশ্বকাপের দ্বাদশ ও সর্বশেষ আসরে ২০১৯ সালে। তখন ইংলিশদের নেতৃত্বে ছিলেন ইয়ন মর্গান।

মজার করা হলো বিশ্বকাপজয়ী ১০ অধিনায়কের মধ্যে বর্তমানে কেউ আর ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন না। তাই এবারের বিশ্বকাপের পরই তালিকায় যুক্ত হবে ১১তম অধিনায়কের নাম। এবারের বিশ্বকাপ ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়াতে দলটি ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামবে।