শিরোপার লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি রাজশাহী-চট্টগ্রাম 

দীর্ঘ ২৮ দিনের উত্তেজনা, ৩৩টি ম্যাচের চুলচেরা বিশ্লেষণ আর অসংখ্য আলোচনা-সমালোচনার অবসান ঘটছে আজ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরের হাইভোল্টেজ ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।

লিগ পর্বের ৩০ ম্যাচ শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল হিসেবেই ফাইনালে পা রেখেছে এই দুই জায়ান্ট। প্রথম কোয়ালিফায়ারে রাজশাহীকে হারিয়ে চট্টগ্রাম সরাসরি ফাইনাল নিশ্চিত করলেও, দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সিলেট টাইটান্সকে হারিয়ে প্রতিশোধের মঞ্চ তৈরি করেছে রাজশাহী। 

বিপিএলের ইতিহাসে রাজশাহীর ফ্র্যাঞ্চাইজি একবার শিরোপা জিতলেও চট্টগ্রামের কোনো দল এখন পর্যন্ত ট্রফির স্বাদ পায়নি। ফলে আজ চট্টগ্রামের সামনে যেমন ইতিহাস গড়ার হাতছানি, রাজশাহীর সামনে তেমন শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ।

রাজশাহী ওয়ারিয়র্স এই আসরের সবচেয়ে ধারাবাহিক দল। দলটির হেড কোচ হান্নান সরকার এর আগে রাজশাহীর ভিন্ন ভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে সহকারী কোচ ও ম্যানেজার হিসেবে শিরোপার স্বাদ পেয়েছেন। এবার হেড কোচ হিসেবে তার লক্ষ্য পূর্ণাঙ্গ সাফল্য। 

হান্নান সরকার বলেন, ‘রাজশাহী শুরু থেকেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে খেলছে। ফেবারিট তকমা আমাদের ওপর থাকলেও আমরা ভাগ্যের চেয়ে মাঠে পারফরম্যান্সকেই গুরুত্ব দিচ্ছি।’

অন্যদিকে, আসর শুরুর ঠিক আগে মালিকানা সংকটে পড়া চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের দায়িত্ব নিয়েছিল বিসিবি। মাঠের বাইরে অগোছালো শুরু হলেও মাঠের লড়াইয়ে শেখ মেহেদীর নেতৃত্বে চমক দেখিয়েছে তারা।

অধিনায়ক শেখ মেহেদী বলেন, ‘ফাইনালে যেহেতু উঠেছি, শিরোপার স্বপ্ন তো দেখবই। আমাদের সবার মধ্যে ট্রফি জয়ের ক্ষুধা আছে। রাজশাহী সেরা দল হতে পারে, তবে নির্দিষ্ট দিনে যারা ভালো ক্রিকেট খেলবে, শিরোপা তাদেরই হবে।’

রাজশাহীর শক্তির মূল জায়গা তাদের বিদেশি রিক্রুট কিউই তারকা জিমি নিশাম ও কেন উইলিয়ামসন। এছাড়া বল হাতে লঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দো ও দেশি তরুণ রিপন মন্ডল নজর কেড়েছেন। বিপরীতে চট্টগ্রামের বড় শক্তি তাদের টিম গেম। অধিনায়ক শেখ মেহেদী, শরিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাঈম শেখ এবং হাসান নাওয়াজদের মতো ক্রিকেটাররা প্রতি ম্যাচেই জয়ের নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

আজকের ফাইনালে মিরপুরের গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠছে বিপিএলের দ্বাদশ আসরের এই রাজকীয় ট্রফি, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো দেশ।