বহুমুখী সংকটে কপালে চিন্তার ভাঁজ ‘আইপিএল’ আয়োজকদের

এবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ২০২৬ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) আয়োজন। আগামী শনিবার (২৮ মার্চ) থেকে এই টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বহুমুখী সংকটে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে আয়োজকদের।

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যে আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলছে, তার আঁচ গিয়ে লেগেছে কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের প্রিয় আসর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল)। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে এলপিজি (LPG) গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একটি পূর্ণাঙ্গ আইপিএল ম্যাচ আয়োজনে স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট পরিচালনা এবং দেশি-বিদেশি হাজার হাজার অতিথির জন্য বিলাসবহুল হোটেলগুলোতে রান্নার কাজে বিপুল পরিমাণ জ্বালানির প্রয়োজন হয়। এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট থাকলে এই বিশাল আয়োজন বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ক্রিকেটারদের ভারতে আসার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ইতোমধ্যে যাতায়াত সমস্যার মুখে পড়েছেন। এছাড়া জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় টুর্নামেন্ট চলাকালীন দলগুলোর এক শহর থেকে অন্য শহরে যাতায়াতের বিমান খরচও কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে আইপিএলের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে, এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে প্রয়োজন হলে আমরা পরিস্থিতি বিবেচনা করে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেব।’

বিসিসিআই-এর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আপাতত হোটেল মালিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি বলে দাবি তার। পরিস্থিতি আরও খারাপ না হলে সূচিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে চায় না বোর্ড। তবে যুদ্ধের ব্যাপ্তি বাড়লে বিকল্প ভেন্যু বা সময় পরিবর্তনের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারে বিসিসিআই।