খেলার মাঝেই ইমরান খানের দুই ছেলের রাজনৈতিক সাক্ষাৎকার প্রচার

ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক লর্ডস টেস্টের মধ্যেই পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের দুই ছেলের রাজনৈতিক সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম স্কাই স্পোর্টস। 

ক্রিকেট ম্যাচের বিরতিতে এমন রাজনৈতিক বক্তব্য সম্প্রচারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

ইএসপিএনক্রিকইনফো ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনের লাঞ্চ বিরতিতে সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করা হয়। সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার মাইকেল আথারটনের নেওয়া প্রায় ১৮ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেইমান খান ও কাশিম খান তাদের বাবার শারীরিক অবস্থা, কারাগারে নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।

ইএসপিএনক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, সাক্ষাৎকারটি প্রচার না করার জন্য ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই স্কাই স্পোর্টসের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল পিসিবি। এমনকি সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হলে পাকিস্তান দলের খেলোয়াড়রা লাঞ্চ বিরতির পর মাঠে ফিরবেন না—এমন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এই বিরোধের কারণে সাক্ষাৎকারটির সম্প্রচার কিছুটা পিছিয়ে যায়। তবে পিসিবির আপত্তি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত স্কাই স্পোর্টস পুরো ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করে। অবশ্য এ নিয়ে মাঠের খেলায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। অধিনায়ক শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দল নির্ধারিত সময়েই লাঞ্চের পর মাঠে ফিরে আসে।

ইমরান খান ১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা এনে দেন। পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করে দেশটির প্রধানমন্ত্রীও হন তিনি। তবে রাজনৈতিক ও আইনি নানা মামলায় জড়িয়ে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দী রয়েছেন সাবেক এই ক্রিকেট তারকা।

সাম্প্রতিক সময়ে কারাগারে তার শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা সুবিধা এবং দীর্ঘ সময় একাকী বন্দিত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার মাইকেল আথারটনসহ বিশ্বের ২১ জন সাবেক টেস্ট অধিনায়ক পাকিস্তান সরকারের কাছে ইমরান খানের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠি দেন।

এর আগে ইমরানের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আথারটন অভিযোগ করেছিলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র যেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর অস্তিত্ব মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।

তবে স্কাই স্পোর্টসে সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হলেও পাকিস্তানের দর্শকদের জন্য এর পূর্ণ সম্প্রচার দেখা সম্ভব হয়নি। দেশটির ক্রিকেট সম্প্রচারের দায়িত্বে থাকা সরকারি টেলিভিশন প্রতিষ্ঠান পাকিস্তান টেলিভিশন (পিটিভি) রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধের কারণে ইমরান খানের দুই ছেলের ওই সাক্ষাৎকার সরাসরি সম্প্রচার থেকে বাদ দেয়।

ঘটনাটি ক্রিকেট সম্প্রচারের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে ম্যাচ চলাকালে একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্প্রচারমাধ্যমে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে বক্তব্য প্রচারের ঘটনাকে ঘিরে দুই দেশের ক্রিকেট ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।