ইমরান খানের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সাত অধিনায়কের মানবিক আবেদন

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের কারাবন্দী জীবন নিয়ে মানবিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সাত অধিনায়ক। এ বিষয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তাঁরা।

পেনি ওংকে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অ্যালান বোর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর ও স্টিভ ওয়াহ। তাঁরা জানিয়েছেন, ‘কূটনীতিক বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নয়; বরং সাবেক অধিনায়ক হিসেবে কথা বলার তাগিদ অনুভব করেই’ তাঁরা এই চিঠি লিখেছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ইমরান খানের বিরুদ্ধে চলমান আইনি বা রাজনৈতিক মামলায় তাঁরা কোনো পক্ষ নিচ্ছেন না। বিষয়টি পাকিস্তানের নিজস্ব ব্যাপার। তাঁদের মূল উদ্বেগ হলো কারাবন্দী একজন ব্যক্তির সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে। তাঁদের ভাষায়, ‘রাজনীতি যা-ই হোক না কেন, এটি মানবতার মৌলিক বিষয়।’

অধিনায়ক হিসেবে পাকিস্তানকে ১৯৯২ বিশ্বকাপ জেতানো ইমরানের পক্ষে খ্যাতিমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের তরফ থেকে এটি সর্বশেষ আবেদন। নতুন চিঠিতে তাঁর অপর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে বিধিনিষেধ এবং আইনি সহায়তার সীমিত সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। ইমরানের স্বাস্থ্য ও কারাগারে তাঁর প্রতি আচরণ নিয়ে তাঁর ছেলে ও বোনেরাও কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন।

এর আগে গত ২৩ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২২ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ৭৩ বছর বয়সী ইমরানের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তাঁদের দাবি ছিল, বর্তমান চিকিৎসাসেবা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার তুলনায় অপ্রতুল।

ওই চিঠিতে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছিল। প্রথমত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত চিকিৎসা বোর্ডকে—যেখানে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরাও রয়েছেন তাঁর পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলা হয়। দ্বিতীয়ত, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুনর্বহাল হওয়া সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাতের সুযোগ কোনো বাধা বা প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। তৃতীয়ত, স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল অনুযায়ী চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা তাৎক্ষণিক দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কের স্বাক্ষরে পাঠানো প্রথম চিঠির ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয়বারের মতো এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরপর পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম ও মইন খান ইমরানের সুচিকিৎসা ও মুক্তির আহ্বান জানান। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, ক্যারিবীয় কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা ও মাইকেল হোল্ডিংও ইমরানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সাত অধিনায়কের এই দলের পক্ষে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য গত মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ করেছিলেন গ্রেগ চ্যাপেল। তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব পাননি।

১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ের পর ক্রিকেট ছেড়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ইমরান খান। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়ার পর দুর্নীতি ও অন্যান্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন তিনি।