হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়লেন হাসান মাহমুদ

নতুন বল হাতে পেয়েই জ্বলে উঠলেন বাংলাদেশের পেসাররা। আর তাতেই আবুধাবি টেস্টে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নিল বাংলাদেশ। দুর্দান্ত বোলিংয়ে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়লেন হাসান মাহমুদ। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন তিনি।

ইনিংসের ৮৩তম ওভারে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হাসান। ওভারের তৃতীয় বলে ইসমাত আলমকে বোল্ড করেন তিনি। পরের বলে ক্রিজে আসা কাইস আহমেদ আউটসাইড এজে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। ক্ষিপ্রতার সঙ্গে সেই ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন উইকেটকিপার লিটন দাস।

হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি হলেও তৃতীয় বলে জিয়াউর রহমানকে এলবিডব্লিউর আবেদনে প্রথমে সাড়া দেননি আম্পায়ার। রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি উইকেটে আঘাত করত। ফলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরতে হয় জিয়াকে। তাতেই পূর্ণ হয় হাসানের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক।

হাসানের আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অলক কাপালি ও সোহাগ গাজী। তাঁরা দুজনই ছিলেন স্পিনার। এবার পেসার হিসেবে সেই তালিকায় প্রথম নাম লেখালেন হাসান মাহমুদ।

আগের দিন আফগানিস্তানের ব্যাটারদের প্রতিরোধে চাপ বাড়ছিল বাংলাদেশের ওপর। তবে তৃতীয় দিনে নতুন বল হাতে পেয়েই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন বাংলাদেশের বোলাররা।

শুরুতে সাফল্য এনে দেন ইবাদত হোসেন। ভেতরে ঢোকা দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ইকরাম আখিলকে বোল্ড করে দেন তিনি। অন্য প্রান্তে রহমত শাহ উইকেটে টিকে থাকলেও সতীর্থদের দ্রুত বিদায়ে চাপে পড়ে আফগানিস্তান।

এরপর হাসান মাহমুদের বিধ্বংসী এক ওভার। তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে আফগান ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান তিনি। ৪ উইকেটে ২১৯ রান থেকে মাত্র ১ রানের ব্যবধানে আরও চার উইকেট হারায় আফগানিস্তান।

হাসানের হ্যাটট্রিক ও বাংলাদেশের পেসারদের সম্মিলিত আক্রমণে ম্যাচে বড় লিড নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবুধাবি টেস্টে এখন চালকের আসনে বাংলাদেশ।