তাইজুলের পাঁচ উইকেটে ম্যাচে ফিরলো বাংলাদেশ

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ১০৬ রানে অল আউট হয়েছে। ব্যাটারদের এমন ব্যর্থতার মাঝে লড়ছেন বোলাররা। বিশেষ করে তাইজুল ইসলাম। তার ৫ উইকেট শিকারে বাংলাদেশ লড়াইয়ে টিকে রয়েছে। দিন শেষে ৪১ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ১৪০ রান। ৪ উইকেট হাতে নিয়ে তারা ৩৪ রানে এগিয়ে রয়েছে। ক্রিজে আছেন উইয়ান মুলডার ও কাইল ভেরিনে। তাদের সংগ্রহ যথাক্রমে ১৭ ও ১৮।

কাগিসো রাবাদা, উইয়ান মুলডার ও কেশব মহারাজার বিধ্বংসী বোলিংয়ে দ্বিতীয় সেশসের শুরুতেই বাংলাদেশ অল আউট হয়ে যায়। তাদের দাপটে এক পর্যায়ে বাংলাদেশ তিন অঙ্কের রানে পৌঁছাতে পারবে কিনা এমন শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সে শঙ্কা থেকে বাংলাদেশ রেহাই পায়। মূলত ব্যাট হাতে তাইজুল ইসলামের দক্ষতায় বাংলাদেশ দলীয় সেঞ্চুরিতে পা রাখে। দশ নম্বরে ব্যাট হাতে নামা তাইজুল ছিলেন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ১৬ রান করেন তিনি। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়ের সংগৃহীত ৩০ রান ছিল বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ রান।

ব্যাটিংয়ের পর বল হাতে তাইজুল ইসলাম আলো ছড়িয়েছেন। তার আলোতে বাংলাদেশ প্রথম দিন শেষে ম্যাচে টিকে রয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে আরো একবার ইনিংসে পাঁচ উইকেটের দেখা পেয়েছেন তাইজুল ইসলাম। এনিয়ে ক্যারিয়ারে ১৩বারের মতো ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেটের দেখা পেলেন তাইজুল। এ ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকারের মাঝ দিয়ে তাইজুল টেস্ট ক্রিকেট দুইশত উইকেট শিকারের মাইলফলকে পা রেখেছেন। বর্তমানে তার শিকার সংখ্যা ২০১। আজ যখন চতুর্থ উইকেট শিকার করেন তখন তিনি দুইশত উইকেট শিকারের মাইলফলকে পা রাখেন। সাকিব আল হাসানের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি বোলার হিসেবে তাইজুল এই মাইলফলকে পৌঁছালেন।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ যখন মাত্র ১০৬ রানে অল আউট হয়ে বড় বিপর্যয়ের সামনে তখন তাইজুল ইসলাম তার ভেলকি দেখালেন। দক্ষিণ আফ্রিকার হারানো ছয় উইকেটের পাঁচটিই শিকার করেছেন তাইজুল। প্রথম আঘাতটি হাসান মাহমুদ করলে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছেন তাইজুল। একে একে তিনি তুলে নিয়েছেন ট্রিস্টান স্টাবস (২৩), ডেভিড বেডিংহাম (১১), টনি ডি জর্জি (৩০), ম্যাথিউ ব্রিটজকে (০) ও রায়ার রিকেলটন (২৭)।

টেস্ট ক্রিকেটে  এক ইনিংসে তাইজুলের সেরা বোলিং ৩৯ রানে ৮ উইকেট। ২০১৪ সালে এই মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন। ক্যারিয়ারে একবার ইনিংসে সাত উইকেটও পেয়েছেন। ২০২১ সালে চট্টগ্রামে পাকিস্তানের বিপক্ষে সাত উইকেট পাওয়ার সাফল্য দেখিয়েছিলেন তিনি। ৬ উইকেট পেয়েছেন পাঁচবার। আর পাঁচ উইকেট ছয় বার। ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগারটাকে এখন সমৃদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে তাইজুলের সামনে। দক্ষিণ আফ্রিকার এখনো চার উইকেট অক্ষত রয়েছে। তাইজুল যেভাবে যাদু দেখিয়ে চলেছেন তাতে করে তার শিকার সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা বেশি।