বিসিবি নির্বাচনে ভোটের চেয়ে আলোচনায় তামিম ইকবাল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। মাত্র তিন দিন পরই ভোট, কিন্তু উত্তেজনা ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের বদলে এখন আলোচনায় শুধু একটাই বিষয়-সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের প্রার্থিতা প্রত্যাহার।

বুধবার সরকারি প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলে মনোনয়নপত্র তুলে নেন তামিম। সঙ্গে ছিলেন আরও ১৫ জন ক্লাব সংগঠক। ফলে যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমজমাট হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন অনেকটাই ফিকে আবহ। শুক্রবার ছুটির দিনেও বিসিবি ভবনে প্রার্থীদের আনাগোনা ছিল, তবে ভোটযুদ্ধের চেয়ে তামিমের নামই বারবার উচ্চারিত হয়েছে।

ক্লাব ক্যাটাগরির প্রার্থীরা প্রচারণা ও সৌহার্দ্য বিনিময়ে মিরপুরে এসেছিলেন। ব্যানার-ফেস্টুন লাগানোর পরিকল্পনা করেছেন কেউ কেউ। কিন্তু তাদের কণ্ঠেও আক্ষেপ-তামিম নেই।

ঢাকা মেরিনার ইয়াংস ক্লাবের কাউন্সিলর শানিয়ান তানিম বলেন, ‘আমি অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি, তামিমের থাকা উচিত ছিল। আমরা একসঙ্গে স্বপ্ন দেখেছিলাম। শুধু তামিম নয়, আরও অনেক যোগ্য প্রার্থী ছিলেন, যারা বোর্ডে থাকার মতো ডিজার্ভ করতেন।’

দেবব্রত পাল, ক্যাটাগরি–৩ থেকে পরিচালক পদে প্রার্থী, ব্যক্তিগত হতাশা লুকাননি, ‘তামিমের অনুপস্থিতি আমাকে অত্যন্ত পীড়া দিয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি কাম্য নয়।’

তবে সবাই যে এক মত, তা নয়। রূপগঞ্জ টাইগার্সের প্রার্থী আদনান রহমান মনে করেন, ‘এটা তামিমের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমরা যারা আছি, সবাই সংগঠক, মাঠের মানুষ। নির্বাচন তো চলছেই।’

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বাদল বরং স্বাধীনভাবে নির্বাচন উপভোগ করার কথা বলেছেন, ‘তামিম–ফাহিমরা থাকলে ভালো হতো, অংশগ্রহণ আরও বাড়ত। কিন্তু কোনো চাপ আমি দেখিনি। বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাই নির্বাচন হবেই।’

তামিম নিজে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় বলেছিলেন, এই নির্বাচন ইতিহাসে ‘কালো দাগ’ হয়ে থাকবে। ভোটে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি। সেই অভিযোগই এখন ঘুরেফিরে আলোচনায়। প্রার্থীরা প্রচারণায় ব্যস্ত থাকলেও তাঁদের মুখে আক্ষেপ একটাই-তামিমের না থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহজ হলেও নির্বাচনের মর্যাদা হারিয়েছে অনেকটা।