ফুটবল খেলায় বলের ভেতরে বাতাস বা হাওয়া দেওয়া একটি চিরচেনা দৃশ্য। কিন্তু কখনো কি শুনেছেন, ম্যাচ শুরুর আগে ফুটবলকে মোবাইল ফোনের মতো চার্জারে বসিয়ে চার্জ দিতে হয়? অবাক হওয়ার মতো বিষয় হলেও ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ঘটতে যাচ্ছে ঠিক এমনটাই। প্রযুক্তির এক অনন্য মিশেলে তৈরি এই বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বল ‘ত্রিওনদা’ (Trionda) সচল রাখতে নিয়মিত ইলেকট্রিক চার্জ দেওয়া বাধ্যতামূলক।
ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাডিডাস’-এর তৈরি এই অত্যাধুনিক বলটি মূলত একটি চলমান কম্পিউটারের মতো কাজ করবে। বলটির ভেতরে থাকা অত্যন্ত শক্তিশালী ও ক্ষুদ্রাকার স্মার্ট সেন্সর সচল রাখার জন্যই এই চার্জের প্রয়োজন হয়। একবার পূর্ণ চার্জ দিলে বলটি প্রায় ছয় ঘণ্টা সক্রিয় থাকে, যা একটি ফুটবল ম্যাচ ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময়। ম্যাচের আগে রেফারি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, বলের ব্যাটারি সম্পূর্ণ চার্জড অবস্থায় রয়েছে কি না।
অ্যাডিডাস এই বলের ঠিক কেন্দ্রে মাত্র ১৪ গ্রাম ওজনের একটি মোশন সেন্সর চিপ স্থাপন করেছে। এই চিপটি ৫০০ হার্টজ (Hz) ক্ষমতার, যা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০০ বার তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। খেলোয়াড়ের পায়ের সামান্যতম স্পর্শ, বলের ঘূর্ণন গতি এবং ঠিক কোন সেকেন্ডে বলটি ডিরেকশন পরিবর্তন করলো-সব তথ্যই এটি মাইক্রো-সেকেন্ডের ব্যবধানে ভিএআর (VAR) ও কন্ট্রোল রুমে পৌঁছে দেবে। চিপটি এমনভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে বসানো হয়েছে যে, খেলোয়াড়রা ড্রিবলিং বা শট নেওয়ার সময় এর অস্তিত্ব টেরই পাবেন না।
মাঠে অফসাইড, হ্যান্ডবল বা বিতর্কিত ফাউলের সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত ও স্বচ্ছ করার লক্ষে এই প্রযুক্তি আনা হয়েছে। বিশেষ করে অফসাইডের ক্ষেত্রে খালি চোখে অনেক সময় সঠিক মুহূর্ত শনাক্ত করা কঠিন হয়। কিন্তু ‘ত্রিওনদা’র সেন্সর সেকেন্ডের ভগ্নাংশ স্তর পর্যন্ত ডাটা বিশ্লেষণ করে নিখুঁত রায় দিতে রেফারিদের সাহায্য করবে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপে ‘ত্রিওনদা’ ফুটবল ইতিহাসের নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে। এখন থেকে ফুটবলের সরঞ্জামের তালিকায় পাম্পারের পাশাপাশি চার্জারের নামটিও যুক্ত হয়ে গেল।