মেসিদের দেখতে সাইকেলে ১৭ হাজার কিলোমিটার পাড়ি

ভালোবাসার টানে অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্পও আছে ফুটবলের পৃথিবীতে। আর্জেন্টিনার তিন সমর্থক মিগুয়েল সিলিও, ইয়ামান্দু মার্তিনেজ ও ভিসেন্তে কনকুলিনি সেই আবেগেরই এক জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। প্রিয় দলের বিশ্বকাপ যাত্রাকে ঘিরে তাঁরা যে অভিযানে বেরিয়েছিলেন, তা এখন ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়।

আর্জেন্টিনার এই তিন ভক্ত সাইকেলে পাড়ি দিয়েছেন প্রায় সতেরো হাজার কিলোমিটার পথ। সময় লেগেছে প্রায় সাড়ে নয় মাস। এই দীর্ঘ যাত্রায় তাঁরা অতিক্রম করেছেন মোট সতেরোটি দেশ। সবকিছুর লক্ষ্য ছিল একটাই, লিওনেল মেসিদের খেলা কাছ থেকে দেখা।

তিন ভক্তের বয়সও ভিন্ন ভিন্ন। সিলিওর বয়স ছাপ্পান্ন, মার্তিনেজের উনচল্লিশ এবং কনকুলিনির ঊনত্রিশ বছর। বয়সের ব্যবধান থাকলেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা তাঁদের এক সুতোয় বেঁধেছে। দীর্ঘ এই পথচলায় তাঁরা এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে পৌঁছে যান আর্জেন্টিনা দলের বিশ্বকাপ ক্যাম্পে।

আর্জেন্টিনার এনত্রে রিওস প্রদেশের গুয়ালেগুয়াইচু শহর থেকে শুরু হয় তাঁদের যাত্রা। শেষ গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি। ভাগ্যের পরিহাসে আর্জেন্টিনা দলও তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে এই শহর থেকেই। দল পৌঁছানোর মাত্র একদিনের মধ্যেই সেখানে হাজির হন এই তিন সমর্থক, যেন সময়ের সাথেই তাল মিলিয়ে চলা এক ভিন্ন আবেগের গল্প।

দলীয় শিবিরে পৌঁছানোর পর আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়। মুহূর্তেই তাঁরা হয়ে ওঠেন দলের প্রিয় অতিথি। খেলোয়াড় ও স্টাফরা তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় বরণ করে নেন।

এই যাত্রা অবশ্য একেবারেই সহজ ছিল না। ইকুয়েডরে সহিংস পরিস্থিতির কারণে তাঁদের সাময়িকভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হয়। কলম্বিয়ায় পৌঁছে আবারও বিপদের মুখে পড়েন তাঁরা, একটি বিস্ফোরণ পরিস্থিতিতে হোটেলের ভেতরে আটকে থাকতে হয় দীর্ঘ সময়। তবুও থেমে থাকেননি এই তিন ভক্ত।

ভিসেন্তে কনকুলিনি তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে জানান, এই যাত্রা শুধু ম্যাচ দেখার জন্য নয়, বরং জীবনের এক দীর্ঘ অভিযাত্রা। তাঁরা পথে পথে নানা মানুষের সঙ্গে দেখা করেছেন, ফুটবলের বাইরেও পেয়েছেন মানবিক সম্পর্কের উষ্ণতা।

এই তিনজনের মধ্যে সিলিও এর আগেও বিশ্বকাপ ঘিরে দীর্ঘ যাত্রা করেছেন। একাধিক বিশ্বকাপে তিনি সাইকেলে চেপে ভিন্ন দেশে গিয়ে আর্জেন্টিনার খেলা দেখেছেন। এবারের অভিযাত্রাও ছিল বহুদিনের পরিকল্পনার ফল।

আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁদের গল্প ছড়িয়ে পড়ে। দলের পক্ষ থেকেও তাঁদের এই অদম্য ভালোবাসাকে সম্মান জানানো হয়। কোচ ও কর্মকর্তারা জানান, ফুটবলের প্রতি এমন নিবেদনই সমর্থকদের আলাদা পরিচয় তৈরি করে।

এই তিন সমর্থকের যাত্রা এখন কেবল একটি সফর নয়, বরং ফুটবলের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছে। হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়েও তাঁদের চোখে ছিল শুধু একটাই লক্ষ্য, প্রিয় আর্জেন্টিনাকে মাঠে দেখা।