ব্রাজিল জাতীয় দলের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ভিনিসিউস জুনিয়র। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ক্লাব পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে উজ্জ্বল হলেও জাতীয় দলের জার্সিতে এখনো সেই ছাপ রাখতে পারেননি।
সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্বীকার করেন, বর্তমান দলে পেলে, রোমারিও বা রোনালদোর মতো একক কোনো মহাতারকা নেই। তবে তার বিশ্বাস, সমষ্টিগত দায়িত্ববোধই ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
এই মন্তব্যের পরই নতুন করে আলোচনায় আসে ভিনিসিউসের নাম। একসময় যাকে ব্রাজিল ফুটবলের পরবর্তী মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছিল, সেই তিনিই এখন প্রশ্নের মুখে।
২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায়ের চার বছর পরও জাতীয় দলে তার পারফরম্যান্স নিয়ে বিতর্ক থামেনি। মার্চে ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-১ গোলের হারের পর ব্রাজিলের বিভিন্ন ক্রীড়া বিশ্লেষণমূলক অনুষ্ঠানে পর্যন্ত প্রশ্ন ওঠে, ভিনিসিউসের কি একাদশে জায়গা পাওয়া উচিত?
অবশ্য পরিসংখ্যান পুরোপুরি তার বিরুদ্ধে নয়। চলতি বিশ্বকাপ চক্রে ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলে অবদান রাখা খেলোয়াড় তিনিই। ২৮ ম্যাচে করেছেন ৭ গোল, সঙ্গে ৬টি অ্যাসিস্ট। তবে ক্লাব ফুটবলে তার যে মান, সেই তুলনায় সংখ্যাগুলোকে অনেকেই যথেষ্ট মনে করছেন না।
সাবেক ব্রাজিল সহকারী কোচ ক্লেবার জাভিয়ারের মতে, ক্লাব এবং জাতীয় দলের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ক্লাবে নিয়মিত অনুশীলন, নির্দিষ্ট কৌশল এবং পরিচিত সতীর্থদের সঙ্গে খেলার সুযোগ থাকলেও জাতীয় দলে তা সম্ভব হয় না। ফলে একজন ফুটবলারের জন্য একই মানের পারফরম্যান্স ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
ভিনিসিউসও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার ভাষায়, ক্লাবে খারাপ ম্যাচের পর দ্রুতই নিজেকে প্রমাণের সুযোগ আসে। কিন্তু জাতীয় দলে ম্যাচের ব্যবধান বেশি হওয়ায় প্রতিটি পারফরম্যান্সই বড় করে দেখা হয় এবং চাপও অনেক বেশি থাকে।
তবে সমালোচনা নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নন এই ফরোয়ার্ড। তার বিশ্বাস, বিশ্বকাপে যদি তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করতে পারেন এবং ব্রাজিল শিরোপা জেতে, তাহলে তার জাতীয় দল অধ্যায় নিয়ে সব আলোচনা বদলে যাবে।
এখন দেখার বিষয়, আনচেলত্তির অধীনে নতুন ব্রাজিলে ভিনিসিউস শেষ পর্যন্ত নিজের প্রতিভার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটাতে পারেন কি না। কারণ বিশ্বকাপ যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে তার কাঁধের দায়িত্বও। সূত্র: বিবিসি