ফুটবল ইতিহাসে কিছু খেলোয়াড় আছেন, যাদের মূল্যায়ন পরিসংখ্যানের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা হয়ে ওঠেন একেকটি মানদণ্ড, একেকটি যুগের প্রতীক। লিওনেল মেসিকে ঘিরে সাম্প্রতিক প্রশংসার ঢল যেন সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
সাবেক সতীর্থ, বর্তমান তারকা এবং ফুটবল বিশ্লেষকদের কণ্ঠে বারবার ফিরে আসছে একই কথা, আধুনিক ফুটবলে মেসির তুলনা মেসিই।
সাবেক জাভি হার্নান্দেজ তো মূল্যায়ন করতে গিয়ে সরাসরি তাঁকে ‘ফুটবলের মাইকেল জর্ডান’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। জাভির মতে, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখা এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার যে সামর্থ্য মেসি দেখিয়েছেন, ফুটবল ইতিহাসে তার নজির খুব কম।
মেসির প্রতি মুগ্ধতা সীমাবদ্ধ নয় তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যেই। নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররাও তাঁর প্রভাবকে দেখছেন বিস্ময়ের চোখে। লামিনে ইয়ামাল মনে করেন, প্রতিটি ম্যাচেই মেসি নতুন করে প্রমাণ করেন কেন তিনি সর্বকালের সেরাদের একজন। তাঁর ভাষায়, মেসির মতো ফুটবলার আর কেউ নেই।
একই ধরনের অভিব্যক্তি এসেছে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার-এর কাছ থেকেও। আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডারের মতে, মেসিকে মাঠে খেলা অবস্থায় দেখা নিজেই একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা। কারণ তিনি শুধু অসাধারণ নন, অনেক অর্থেই তুলনাহীন।
প্রশংসার পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে আরেকটি সম্ভাব্য ইতিহাস। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসে-র ১৬ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন মেসি। ফলে এখন আর মাত্র একটি গোলই তাঁকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে বসিয়ে দিতে পারে।
অবশ্য এই লড়াইয়ে দূর থেকে চাপ তৈরি করে যাচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকার এই রেকর্ড-দৌড় বিশ্বকাপের গল্পে যোগ করেছে বাড়তি নাটকীয়তা।
তাই গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচকে ঘিরে উত্তেজনাও বেড়েছে কয়েক গুণ। ইতিহাসের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা মেসি আরেকটি গোল পেলেই বদলে যেতে পারে বিশ্বকাপের রেকর্ডবইয়ের শীর্ষ নাম। আর ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষা করছে, এই মহাতারকা নিজের কিংবদন্তিকে আর কতটা উঁচুতে নিয়ে যেতে পারেন তা দেখার জন্য।