বিশ্বকাপ এলেই যেন অন্য এক রূপে আবির্ভূত হন ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। তহলে কি তাকে বিশ্বকাপের সন্তান বলা যায়? তাঁর পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে এমন প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ বলতেই হয়। গোলের পর গোল করে যেমন দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন, তেমনি একের পর এক গড়ছেন নতুন রেকর্ড।
২০১৮ বিশ্বকাপে অভিষেকেই বাজিমাত করেছিলেন এমবাপ্পে। চার গোল করে ফ্রান্সকে এনে দেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপে দল শিরোপা জিততে না পারলেও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ রেখে যান তিনি। ফাইনালে হ্যাটট্রিকসহ পুরো টুর্নামেন্টে করেন আট গোল, জিতে নেন গোল্ডেন বুট।
তবে এবার যেন আগের সব কীর্তিকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার মিশনে নেমেছেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। চলতি আসরে মাত্র চার ম্যাচেই করেছেন ছয় গোল। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ১৮।
গতকাল রাতে নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন এমবাপ্পে। এর আগে গ্রুপ পর্বে সেনেগাল ও ইরাকের বিপক্ষেও করেছিলেন দুটি করে গোল। ফলে ছয় গোল নিয়ে চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসির পাশে উঠে এসেছেন তিনি, যদিও মেসির তুলনায় একটি ম্যাচ বেশি খেলেছেন।
সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোলের সুবাদে এমবাপ্পে এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। এর আগে ১৬ গোল নিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন তিনি। এখন তাঁর সামনে রয়েছেন শুধুই লিওনেল মেসি। মেসি যেখানে ১৯ গোল করতে খেলেছেন ২৬ ম্যাচ, সেখানে এমবাপ্পে ১৮ ম্যাচেই পৌঁছে গেছেন ১৮ গোলের মাইলফলকে।
বিশ্বকাপের গোলসংখ্যায় শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পে কোথায় গিয়ে থামবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আপাতত চলতি আসরে তাঁর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী মেসি। গোলের লড়াইয়ে আর্জেন্টাইন মহাতারকার ঠিক পেছনেই অবস্থান করছেন ফরাসি এই তারকা।
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা (শীর্ষ ৫)
খেলোয়াড় | দেশ | গোল |
লিওনেল মেসি | আর্জেন্টিনা | ১৯ |
কিলিয়ান এমবাপ্পে | ফ্রান্স | ১৮ |
মিরোস্লাভ ক্লোসা | জার্মানি | ১৬ |
রোনালদো নাজারিও | ব্রাজিল | ১৫ |
জার্ড মুলার | জার্মানি | ১৪ |