ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের সবচেয়ে বড় মুহূর্তটি ছিল ৬৭-৬৮ মিনিটে রোনালদোর পেনাল্টি। পর্তুগাল তখন চাপে, গ্যালারিতে নিস্তব্ধতা, আর বলের পেছনে দাঁড়িয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কিন্তু শট নেওয়ার আগের কয়েক সেকেন্ডই ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, শট নেওয়ার আগে কিছুক্ষণ নিচের দিকে তাকিয়ে নিজের ঠোঁট নড়াচ্ছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। শব্দ শোনা যায় না, কিন্তু সেই নীরব মুহূর্ত নিয়েই শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ঘিরে অনেক ব্যবহারকারী দাবি করছেন, রোনালদো আরবি শব্দ ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করেছিলেন। কেউ আবার বলছেন, শব্দটি তিনি একবার নয়, দুবার বলেছেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিডিওটি লাখোবার দেখা হয় এবং মন্তব্যে ভরে যায় এক্স, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম।
তবে দাবিটির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আসেনি। ভিডিওতে ঠোঁটের নড়াচড়া দেখা গেলেও কী বলা হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে বোঝার সুযোগ নেই। কোনো অডিওও নেই, যা দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব।
আলোচনাটি এতটাই ছড়িয়ে পড়ে যে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-ও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তারাও উল্লেখ করেছে, ভিডিও দেখে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়, রোনালদো আসলে কী উচ্চারণ করেছিলেন।
এ ধরনের গুঞ্জন অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় রীতিনীতির প্রতি রোনালদোর আগ্রহ নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় অতীতেও একাধিকবার দাবি উঠেছিল, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনি ‘বিসমিল্লাহ’ বলেন। কিন্তু কখনোই সেই দাবির পক্ষে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রোনালদো নিজেও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।
সব বিতর্কের বাইরে মাঠে অবশ্য নিজের কাজটা ঠিকই করেছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। পিছিয়ে পড়া দলকে পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরান তিনি। এরপর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গনসালো রামোসের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় পর্তুগাল।
এই গোলটি রোনালদোর ক্যারিয়ারেও আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। দুই দশকেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ফুটবল জীবনে এটিই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার প্রথম গোল। সেই জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন।
তবে ম্যাচের ফলের মতোই আলোচনায় থেকে গেছে পেনাল্টির আগের সেই কয়েক সেকেন্ড। রোনালদো ঠিক কী বলেছিলেন, তার উত্তর এখনো মেলেনি। তাই ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণের দাবিকে আপাতত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।