ফিলিস্তিনের পক্ষে মানবিক বার্তা মিশর কোচের

‘অনুভূতি না থাকলে মানুষ নন’

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ-এ ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে মিশর জাতীয় ফুটবল দল। শেষ ষোলো পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল- এর মুখোমুখি হওয়ার আগে দলের কোচ হোসাম হাসান আলোচনায় এলেন মাঠের কৌশলের বাইরে এক মানবিক বক্তব্যের কারণে। ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি বলেছেন, তাদের কষ্ট অনুভব না করলে মানুষের মানবিকতাই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

মিশর জাতীয় ফুটবল দল অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা যায় হোসাম হাসানকে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে সেই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি জানান, এটি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; বরং একজন মানুষের বিবেক ও মানবিক অবস্থানের প্রকাশ।

হোসাম বলেন, ‘পৃথিবীতে যদি এমন কেউ থাকেন, যিনি ফিলিস্তিনের মানুষের কষ্ট অনুভব করেন না, তাহলে তিনি মানুষ নন, তিনি আরব, ইউরোপীয় কিংবা আমেরিকান যেই হোন না কেন।’

ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মিশর কোচ বলেন, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে নির্যাতনের ঘটনা মানুষকে নাড়া দেয়। কিন্তু বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও যুদ্ধের ভয়াবহতা অনেক সময় স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় তিনি ব্যথিত।

তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মের আগে আমি একজন মানুষ। ফুটবলের মাধ্যমে আমার বার্তা হলো—ফিফা যে পারস্পরিক সম্মান ও ঐক্যের কথা বলে, মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারকেও একইভাবে সম্মান করতে হবে।’

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিপক্ষ দলে রয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। তবে ম্যাচের আগে মিশরের আলোচনার কেন্দ্রে শুধু প্রতিপক্ষের শক্তি কিংবা কৌশল নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধের বিষয়টিও জায়গা করে নিয়েছে।

এদিকে চলমান বিশ্বকাপে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের সরব হতে দেখা গেছে। লামিন ইয়ামাল -এর প্রকাশ্য সমর্থনও বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।