ফকল্যান্ড ইস্যুতে মেসিদের সমালোচনা করলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফকল্যান্ড (মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বার্তাসংবলিত একটি ব্যানার প্রদর্শন করায় আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে উদযাপনের সময় খেলোয়াড়দের হাতে একটি ব্যানার দেখা যায়, যেখানে ফকল্যান্ড বা মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দাবির প্রতি সমর্থনসূচক বার্তা ছিল। ঘটনাটি পরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এ প্রসঙ্গে আর্জেন্টিনার একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট মিলেই বলেন, খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতিকে এক করা উচিত নয়। তার ভাষায়, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত, মাঠের উদযাপনের মাধ্যমে নয়। 

তিনি বলেন, “তেল আর পানি যেমন একসঙ্গে মিশে না, তেমনি ফুটবল ও রাজনীতিও একসঙ্গে মেশানো উচিত নয়। ফুটবল একটি খেলা, সেটিকে সেই জায়গাতেই রাখা প্রয়োজন।”

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। এরপর ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ করে দলকে জেতানোর পর কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা বলেছিলেন, সেই জয় ছিল ফকল্যান্ড যুদ্ধের এক ধরনের প্রতিশোধ।

ম্যারাডোনার সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে মিলেই বলেন, “আমাদের আবেগের বদলে বাস্তবতা বিবেচনা করতে হবে। ম্যারাডোনার কোনো গোলই ফকল্যান্ডকে আর্জেন্টিনার কাছে ফিরিয়ে আনেনি।”

এ ধরনের ঘটনার সমালোচনা এর আগেও করেছিলেন প্রেসিডেন্ট মিলেই। তখন তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা কোনো কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি নন। এ ধরনের কাজ করে তারা বোকামির পরিচয় দিয়েছে।”