বাবা হোর্হে মেসির প্রয়াণে গভীর শোকে নিমজ্জিত বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। জীবনের এই কঠিন সময়ে মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনিসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশে দাঁড়াতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জরুরি ভিত্তিতে নিজ দেশ আর্জেন্টিনায় ফিরলেন ইন্টার মিয়ামির এই ফরোয়ার্ড।
বার্ধক্যজনিত ও শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে শনিবার (৮ আগস্ট) ভোরে রোজারিওর ‘সানাতোরিও সেন্ট্রো’ হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন ৬৮ বছর বয়সী হোর্হে মেসি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করলেও পরিবারের ইচ্ছাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি।
স্প্যানিশ দৈনিক ‘এল পাইস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে মিয়ামি থেকে সরাসরি জন্মশহর রোজারিওর উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের। শোকের এই মুহূর্তে মেসি পরিবারের পক্ষ থেকে গোপনীয়তা বজায় রাখার বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পিতৃহারা হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই আপাতত ফুটবল থেকে দূরে থাকছেন মেসি। মেক্সিকোর জনপ্রিয় ক্লাব মনতেরের বিপক্ষে ইন্টার মিয়ামির আসন্ন লিগস কাপের ম্যাচটিতে তাঁকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে দলকে। মায়ামির হয়ে খেলার চেয়ে শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে থাকাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই বিশ্বজয়ী তারকা।
বিশ্বকাপ জয়ের উৎসব শেষে রোজারিওতে ফিরে কিছুদিন অসুস্থ বাবার সঙ্গে একান্ত সময় কাটিয়েছিলেন মেসি। পরবর্তীতে ইন্টার মিয়ামির ক্যাম্পে যোগ দিয়ে গত সপ্তাহেও মাঠ মাতিয়েছেন তিনি।
হোর্হে মেসির প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ, কনমেবল এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনসহ (এএফএ) বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলো। শ্রদ্ধা জানাতে আর্জেন্টিনার সব ঘরোয়া ম্যাচে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং খেলোয়াড়, রেফারি ও কোচিং স্টাফদের কালো আর্মব্যান্ড পরার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।
আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ‘পাহিনা ১২’-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোর্হে মেসির স্মরণে সর্বসাধারণের জন্য কোনো বড় শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে না। কেবল নিকটাত্মীয় ও ঘনিষ্ঠজনদের সান্নিধ্যে পারিবারিক পরিবেশেই শেষকৃত্যের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে মেসি পরিবার।